ইরানের বিরুদ্ধে প্রায় ৫০,০০০ সেনা প্রস্তুত রেখেছেন ট্রাম্প

নিউইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট

ইরানের বিরুদ্ধে প্রায় ৫০,০০০ সেনা প্রস্তুত রেখেছেন ট্রাম্প

ফন্ট সাইজ:

ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে প্রায় ৫০,০০০ মার্কিন সেনাকে প্রস্তুত রেখেছেন। এসব বাহিনীর মধ্যে বিমানবাহী রণতরী, ডেস্ট্রয়ার, মেরিন ইউনিট এবং যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত। নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, এই সেনারা প্যারাশুট ও বেঁচে থাকার সরঞ্জামসহ মোতায়েন রয়েছে এবং ট্রাম্পের ঘোষিত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস অভিযানের অংশ হিসেবে কাজ করছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। কখনো বলা হচ্ছে অভিযান শেষ, আবার কখনো বলা হচ্ছে তা স্থগিত বা পুনরায় শুরু হতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মঙ্গলবার বলেছেন, অপারেশন এপিক ফিউরি শেষ হয়েছে। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, মূল লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ করা। পরে ট্রাম্প আবার বলেন, ইরান যদি নির্দিষ্ট শর্ত মানে, তাহলে যুদ্ধ শেষ হবে এবং প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ করা হবে। অন্যথায় আবার হামলা শুরু হবে।

যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনী এখনো ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ বজায় রেখেছে। এক মার্কিন যুদ্ধবিমান বুধবার একটি ইরানি পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ অচল করে দেয় বলে দাবি করা হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৪০,০০০ মার্কিন সেনা ছিল। কিন্তু উত্তেজনা বাড়ার পর সংখ্যা বেড়ে ৫০,০০০-এর বেশি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান যেসব বাহিনী মোতায়েন আছে তার মধ্যে অন্যতম ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশন। এর আওতায় প্রায় ২,০০০ প্যারাট্রুপার সেনা মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন রয়েছে। তারা কোথায় আছে তা পেন্টাগন প্রকাশ করেনি। বিশ্লেষকদের মতে, তাদের সম্ভাব্য ব্যবহার হতে পারে ইরানের খার্গ দ্বীপ দখল বা কোনো বিমানঘাঁটি নিয়ন্ত্রণে নিতে। তবে এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি করবে।

আর একটি বিভাগ হলো ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট। প্রায় ২৫০০ মেরিন ও ২৫০০ নৌসেনা এই ইউনিটে রয়েছে। তারা কোনো দ্বীপ বা কৌশলগত এলাকা দখলের অভিযানে অংশ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্পেশাল অপারেশনস ফোর্সে কয়েকশ বিশেষ বাহিনীর সেনা মার্চ মাসে মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, বিশেষ করে ইসফাহান সাইট।

বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও ইউএসএস জর্জ এইচ.ডব্লিউ. বুশ বর্তমানে আরব সাগরে অবস্থান করছে। এই রণতরীগুলোর সঙ্গে থাকা যুদ্ধজাহাজ ও হাজারো নৌসেনা বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সক্ষমতা রাখে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি বিমানবাহী রণতরী জেরাল্ড ফোর্ড আগুনজনিত সমস্যার পর আটলান্টিক মহাসাগরের দিকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন