ট্রাম্পের আশা, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ দ্রুতই শেষ হবে

ট্রাম্পের আশা, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ দ্রুতই শেষ হবে

ফন্ট সাইজ:

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে। এমন আশা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি সতর্ক করেছেন। বলেছেন, কূটনীতি ব্যর্থ হলে আবার বোমা হামলা শুরু হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালি অবরোধ এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান অচলাবস্থা নিরসনে একটি চুক্তির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। জর্জিয়ার রিপাবলিকান গভর্নর প্রার্থী বার্ট জোন্সের সমর্থনে আয়োজিত এক টেলি-সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, যখন আপনারা দেখছেন কী ধরনের ঘটনা ঘটছে, আমরা এটা করছি একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণে। আমরা তাদের (ইরান) কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দিতে পারি না। তাই আমি মনে করি বেশিরভাগ মানুষ এটা বুঝতে পারছে।

তারা বুঝতে পারছে আমরা যা করছি তা সঠিক এবং এটি দ্রুত শেষ হবে। পরে ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে আমার খুব ভালো আলোচনা হয়েছে এবং সম্ভাবনা খুবই বেশি যে আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারব। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব এখনও পর্যালোচনাধীন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইসনা’র জানিয়েছে তিনি বলেন, তেহরান নিজেদের অবস্থান চূড়ান্ত করার পর মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের মাধ্যমে জবাব পাঠাবে।

ওদিকে লেবাননে হামলা আরও বিস্তৃত করেছে ইসরাইল। বৈরুতে বোমা হামলা চালিয়েছে। গত ১৭ এপ্রিল কার্যকর হওয়া তথাকথিত যুদ্ধবিরতির পর এই প্রথম লেবাননের রাজধানীতে হামলা চালানো হলো। লেবাননের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বারবার লঙ্ঘন করে আসা ইসরাইলি বাহিনী বুধবার দেশজুড়ে হামলা চালিয়ে কমপক্ষে ১৩ জনকে হত্যা করেছে। তাদের দাবি, বৈরুতে হামলায় হিজবুল্লাহর এক জ্যেষ্ঠ কমান্ডারকে টার্গেট করা হয়। গাজায় ইসরাইলের হামলার নিন্দা জানিয়েছে হামাস। তারা বলেছে, প্রতিদিনের বোমাবর্ষণ এবং ক্রমবর্ধমান মৃত্যুর সংখ্যা যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের গণবিনাশী যুদ্ধের ধারাবাহিকতা।

ওয়াশিংটন ডিসি থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক কিম্বারলি হালকেট জানিয়েছেন, ট্রাম্প বলেছেন- ইরান যদি তার শর্তগুলো না মানে, যার মধ্যে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া অন্তর্ভুক্ত, তাহলে আবার বোমা হামলা শুরু হবে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, সে ক্ষেত্রে হামলা আরও উচ্চমাত্রায় এবং আরও তীব্রভাবে চালানো হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প একদিকে কূটনীতির সুযোগ খোলা রাখলেও, অন্যদিকে আবারও সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতি অনুসরণ করছেন। তার বিশ্বাস, সামরিক ও অর্থনৈতিক দুই দিক থেকেই ইরান দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং এখন তেহরানকে ছাড় দিতে হবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মঙ্গলবার একই ধরনের মন্তব্য করেন।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে তেলের দাম কমানোর উদ্দেশ্যে ট্রাম্প প্রায়ই আত্মবিশ্বাসী বার্তা দেন। এবারও তিনি সেটাই করছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবে তিনি ভবিষ্যতে সম্ভাব্য মুখোমুখি বৈঠকের ইঙ্গিত দিচ্ছেন, যা এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক কিমিট বলেছেন, ট্রাম্পের ইরানকে সব ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের দাবি বাস্তবসম্মত নয় এবং তেহরান তা মেনে নেয়ার সম্ভাবনাও কম। তিনি বলেন, আমি মনে করি না এটি ইরানিদের কাছে বাস্তবসম্মত কোনো প্রস্তাব। এই আলোচনায় ইরান যদি কোনো বিষয়ে অনড় থাকে, তবে সেটি হবে ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার। পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধ চুক্তির আওতায় এটি অনুমোদিত। তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৫ সালের জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন বা জেসিপিওএ চুক্তিতেও ইরানকে সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়।

কিমিট বলেন, যুক্তি হচ্ছে আপনি যদি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ না করেন, তাহলে বোমা তৈরি করতে পারবেন না। প্রেসিডেন্ট যুক্তি দেবেন যে, ১২ বছরের জন্য তারা অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। তবে তার মতে, ট্রাম্প চাইবেন ইতিমধ্যে সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়াম দেশ থেকে সরিয়ে নিতে। তিনি বলেন, ইরান হয়তো এতে রাজি হতে পারে অথবা সেটিকে আবার অসামরিক পর্যায়ে নামিয়ে আনতে পারে। কিমিটের ধারণা, ইরান যদি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সব ধরনের সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত করতে রাজি হয়, তাহলে ট্রাম্প সেটিকে একটি বড় কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে তুলে ধরবেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট যদি ইরানকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সব সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত করতে রাজি করাতে পারেন, তাহলে তিনি এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজয় হিসেবে উপস্থাপন করবেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন