বদলি নিয়ে ৪র্থ পরিপত্র জারি, তবুও শঙ্কা কাটছে না শিক্ষকদের

ফন্ট সাইজ:

বদলির জন্য কয়েক বছর ধরে আন্দোলন করে যাচ্ছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। আগে তিনবার পরিপত্র জারি হলেও চালু হয়নি কার্যক্রম। গতকাল ফের সংশোধিত বদলি নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরপরও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার শঙ্কা কাটছে না বদলি প্রত্যাশী শিক্ষকদের। তারা দ্রুত সফ্টওয়্যার চালুর দাবি জানান।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বদলি নিয়ে ২০১৯ সাল থেকে আন্দোলন করছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পর অন্তর্বর্তী সরকারও দিয়েছিল আশ্বাস। কিন্তু ফল ছিল শূন্য। দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি, আবেদনের কথা মাথায় রেখে বিএনপি সরকার এসে দ্রুততার সঙ্গেই ব্যবস্থা নিলো।

বদলিপ্রত্যাশীরা খুশি। তবে একাধিক শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে আনন্দের পাশাপাশি শঙ্কার বিষয়টি জানা যায়। তারা বাকি কাজ নিরবচ্ছিন্ন ও দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়নের দাবি জানান।

গতকাল বদলির সংশোধিত পরিপত্র জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য সংশোধিত বদলি নীতিমালায় বলা হয়েছে, একজন শিক্ষক কর্মজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলি হওয়ার সুযোগ পাবেন। বদলিকৃত শিক্ষক ইনডেক্স আগের প্রতিষ্ঠান থেকে বদলিকৃত প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে ট্রান্সফার হবে। সরকার জনস্বার্থে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বদলি করতে পারবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্য পদের চাহিদা, বিবরণ সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে প্রকাশ করবে। প্রকাশিত শূন্য পদের বিপরীতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর শিক্ষকদের আবেদন আহ্বান করবে। সমস্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠানপ্রধান, সহকারী প্রধান, একই বিষয়ের শিক্ষক সমপদ শূন্য থাকা সাপেক্ষে প্রতিবছর সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন গ্রহণ, বদলির আদেশ জারি ও নতুন কর্মস্থলে যোগদান কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

এতে আরও বলা হয়েছে, আবেদনকারী শিক্ষক তার চাকরির আবেদনে উল্লেখকৃত নিজ জেলায় বদলির জন্য আবেদন করবেন। নিজ জেলায় পদ শূন্য না থাকলে নিজ বিভাগের যেকোনো জেলায় বিদ্যমান শূন্য পদের বিপরীতে বদলির আবেদন করতে পারবেন। এ ছাড়া আবেদনকারী শিক্ষক স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলা অথবা স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল জেলায় (সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান) বদলির আবেদন করতে পারবেন। এ ছাড়া আবেদনকারী শিক্ষক স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলা অথবা স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল জেলায় (সরকারি/আধা সরকারি/স্বায়ত্তশাসিত/এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান) বদলির আবেদন করতে পারবেন। প্রথম যোগদানের পর চাকরি দুই বছর পূর্ণ হলে বদলির আবেদন করার জন্য যোগ্য হবেন।

বদলিপ্রত্যাশী শিক্ষক আতিকুর রহমান বলেন, নীতিমালা হয়েছে, পরিপত্রও হয়েছে। আমরা খুশি। কিন্তু আমাদের ভয় একটাই, বাস্তবায়নটা ঠিকমতো হবে কি না। আগেও তিনবার পরিপত্র হয়েছে। কিন্তু কোনোবারই আমরা প্রকৃত সুবিধা পাইনি। এবারও যদি সফ্টওয়্যার চালু না হয় বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে যায়, তাহলে এই ভোগান্তি আরও বাড়বে।

শিউলী আক্তার বলেন, অনেক সময় দেখা যায় স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ে সুপারিশ, চাপ বা অনিয়ম ঢুকে পড়ে। আমরা চাই সম্পূর্ণ অনলাইন ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা, যাতে যোগ্যতার ভিত্তিতেই বদলি হয়। একই জায়গায় বছরের পর বছর আটকে থাকাটা একজন শিক্ষকের মানসিক চাপ ও পারিবারিক জীবনে বড় প্রভাব ফেলে। তাই শুধু নীতিমালা নয়, দ্রুত ও কার্যকর বাস্তবায়নটাই এখন সবচেয়ে বড় শঙ্কা ও দাবি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, জারিকৃত নীতিমালা অনুযায়ী সফ্টওয়্যার আপডেট করবে টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড। সফ্টওয়্যার আপডেট হওয়ার পর মাঠপর্যায় থেকে শিক্ষকদের তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু হবে। এই তথ্য আপডেটের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার টেলিটককে চিঠি দেবে। আগামী রোববার থেকে সফটওয়্যার আপডেটের কার্যক্রম শুরু হতে পারে।





ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন