সিলেট নগরীর কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে গুরুতর আহত রিপন আহমদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার মারা যান। এ ঘটনায় বুধবার নিহতের বাবা গোলাপগঞ্জ উপজেলার রণকেলী উত্তর গ্রামের মৃত জাবিদ আলীর ছেলে ছাবলু মিয়া বাদী হয়ে ভাঙচুর, মারপিট, হত্যা ঘটনায় জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মইনুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে ২৯ জনের নামে দক্ষিণ সুরমা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলা আরও ৬০ জনকে অজ্ঞাত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ সুরমা থানা সূত্র।
মামলার এজাহারের অন্য আসামিরা হলো- নগরীর কুমারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত আলাউদ্দিন সওদাগরের ছেলে ও শ্রমিক নেতা আলী আকবর রাজন, দক্ষিণ সুরমা থানার আহমদপুরের আছাব আলীর ছেলে মিলাদ আহমদ রিয়াজ, মোগলাবাজার থানার সুলতানপুর গ্রামের মৃত করিম মিয়ার ছেলে রিয়াজ মিয়া, দক্ষিণ সুরমা আহমদপুর গ্রামের ইলিয়াছ আলী, সিলামের রজাক আলীর ছেলে আব্দুস সহিদ, জকিগঞ্জের কেছরি গ্রামের মৃত নেছার আলীর ছেলে সামছুল হক মানিক, দক্ষিণ সুরমা ঝালোপাড়ার হাসিমুখ আলীর ছেলে তাজউদ্দিন তায়েছ, মোগলাবাজারের সুলতানপুরের করিম আলীর ছেলে তাহির আলী, হবিগঞ্জের দরিয়াপুর গ্রামের আক্তার আলীর ছেলে আলী আহমদ তপু, দক্ষিণ সুরমা গোটাটিকর এলাকার সজিবুর রহমানের ছেলে ফারুক আহমদ রাজা, ভার্থখলার আপিল উদ্দিন মস্তানের ছেলে জিতু মিয়া, কদমতলী শতাব্দী বিল্ডিং-এর বাসিন্দা মৃত ফুল মিয়ার ছেলে ধনু মিয়া, কৃতিপুরের জহির আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম মনির, বিশ্বনাথের রজবপুরের আওলাদ আলীর ছেলে ইবন মিয়া, দক্ষিণ সুরমা রশিদপুরের সোনাফর আলীর ছেলে ছনু মিয়া, আহমদপুরের রমজান আলীর ছেলে সমসর আলী, শাহপরান (রহ.) থানার আব্দুল জলিলের ছেলে কামাল মিয়া, ছাদেক আহমদ, দক্ষিণ সুরমার ঝালোপাড়ার হাসিম আলীর ছেলে সাজ উদ্দিন, লালাবাজারের নুর মিয়া উরফে সাপুড়িয়া, আহমদপুর শমসেরের বাড়ির মাছুম আহমদ, বিয়ানীবাজারের এতিমখানি গ্রামের মৃত মতু মিয়ার ছেলে আব্দুল বাছিত বাছা, বিশ্বনাথ বৈরাগীবাজার নদার গ্রামের রফিক মিয়ার ছেলে জুবেল আহমদ, আলী হোসেনের ছেলে দেলওয়ার হোসেন, কারিকোনা গ্রামের তেরাব আলীর ছেলে নিজাম উদ্দিন, বৈরাগীবাজার মোতারাই পাড়ার মকবুল হোসেনের ছেলে নাছির আহমদ, দক্ষিণ সুরমা রশিদপুরের সুনু মিয়ার ছেলে ফারুক মিয়া, বিশ্বনাথের রজাকপুর গ্রামের আওলাদ আলীর ছেলে শামীম আহমদ।
নিহত বাস শ্রমিক রিপন আহমদের পিতা ছাবলু মিয়া। মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন- রিপন আহমদ সিলেট টু জকিগঞ্জ লাইনের মিনি বাসের হেল্পার। এ ছাড়াও মামলার আসামিরা সিলেট কদমতলীতে অবস্থিত বাস টার্মিনালে সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে এবং তাদের কোনো গাড়ি না থাকা স্বত্বেও তারা জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ লাইনের গাড়ি হতে অবৈধভাবে দীর্ঘদিন যাবৎ চাঁদা আদায় করে আসছে। এ নিয়ে মালিক সমিতির সঙ্গে বিবাদীদের বিরোধ দেখা দেয়। যা জেলা ও কেন্দ্রীয় মালিক সমিতি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করেন।
এ সময় রিপন আহমদ সিলেট জেলা মালিক সমিতির অফিসের সম্মুখে রাস্তার উপর ছিলেন। হঠাৎ করে আসামিরা অজ্ঞাতনামাসহ বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দলবদ্ধ হয়ে হামলা করে। এ সময় রিপনকে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। তখন রিপনকে বাঁচতে অন্যরা এগিয়ে এলে তাদেরকেও মারপিট করে রক্তাক্ত জখম করা হয়। এ মারপিটের কারণে দেলোয়ার হোসেন নামের এক শ্রমিক এখনো হাসপাতালে মৃত্যু শয্যায় শায়িত। এ ব্যাপারে দক্ষিণ সুরমা থানার অফিসার ইনচার্জ আশরাফুজ্জামান জানান, নিহত রিপনের বাবার এজাহারপ্রাপ্ত হয়ে দক্ষিণ সুরমা থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে।
