চট্টগ্রামে হেয়ার কাট বাতিল ও আমানত ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ, বাংলাদেশ ব্যাংকে স্মারকলিপি

চট্টগ্রামে হেয়ার কাট বাতিল ও আমানত ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ, বাংলাদেশ ব্যাংকে স্মারকলিপি

ফন্ট সাইজ:

আমানতের টাকা ফেরত ও ‘হেয়ার কাট’ (মুনাফা কেটে রাখা) নীতি বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা। গতকাল সকাল থেকে ‘সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক আমানতকারী এসোসিয়েশন চট্টগ্রাম বিভাগ’-এর ব্যানারে নগরের নিউমার্কেট এলাকায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। পরে মিছিল নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এরপর বিক্ষোভকারীরা আলকরণ মোড়ে, জিপিওর বিপরীতে অবস্থান নেন। এ সময় তারা ‘আমার টাকা ফেরত চাই’, ‘হেয়ার কাট মানি না’, ‘আমানত নিয়ে টালবাহানা চলবে না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

বিক্ষোভে অংশ নেয়া গ্রাহকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে তাদের জমাকৃত অর্থ উত্তোলনে সীমাবদ্ধতা থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। প্রয়োজনের সময় টাকা তুলতে না পেরে পরিবার ও ব্যবসা পরিচালনায় সংকট তৈরি হয়েছে। আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির প্রস্তুতিতেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে জানান অনেকেই। আন্দোলনকারীরা জানান, আলোচ্য পাঁচ ব্যাংক এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংকে প্রায় ৭৫ লাখ গ্রাহকের প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা আমানত রয়েছে। এসব আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত, উত্তোলনের সীমাবদ্ধতা প্রত্যাহার এবং দ্রুত স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালুর দাবি জানান তারা। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দেয়। এতে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়- আমানত ফেরতের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা, গ্রাহকদের নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মন্তব্য থেকে বিরত থাকা।

সংগঠনের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমানতকারীদের অর্থেই ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালিত হয়, অথচ তাদের সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করা হচ্ছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আফতাব উদ্দিন বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তার স্বার্থে বিক্ষোভকারীদের নির্দিষ্ট স্থানে কর্মসূচি পালনের অনুরোধ করা হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন ছিল। এর আগে গত রোববার ও সোমবার খাতুনগঞ্জ এবং আগ্রাবাদ এলাকায় এই পাঁচ ব্যাংকের মোট নয়টি শাখায় তালা দেন আমানতকারীরা।



কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন