নেছারাবাদের স্বরূপকাঠি পৌরসভায় বাড়ি নির্মাণের অনুমোদন পেতে গিয়ে এক বছরের বেশি সময় ধরেও কোনো সমাধান না পেয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিসে বসেই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী। অভিযোগ রয়েছে, ফাইল এগিয়ে নিতে ধাপে ধাপে বিভিন্ন টেবিলে টাকা দেয়ার পরও মেলেনি কাঙ্ক্ষিত অনুমোদন। ভুক্তভোগী মোসা. মৌসুমী আক্তারের অভিযোগ, নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে উপ-সহকারী প্রকৌশলীর কক্ষ পর্যন্ত একাধিকবার টাকা দিতে হয়েছে তাকে। প্রতিবারই নতুন করে ‘খরচ’ দাবি করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ৫ই মে অফিসে গিয়ে কাজের অগ্রগতি জানতে চাইলে আবারো ৫ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ তার।
এ সময় তিনি অফিসেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। মৌসুমী অভিযোগে জানান, প্রবাসে কর্মরত স্বামীর পাঠানো কষ্টার্জিত টাকায় জমি কিনে একটি তিনতলা বাড়ি করার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু অনুমোদনের জন্য ইতিমধ্যে প্রায় ৫৩ হাজার টাকা খরচ করেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে, অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা টাকা নেয়ার বিষয়টি আংশিক স্বীকার ও আংশিক অস্বীকার করেছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মহসিন বলেন, ওই নারী কাজের জন্য আমার কাছে এসেছিল। কাজের ফি-এর জন্য টাকা চেয়েছিলাম। তিনি আমাকে কতো দিয়েছিল তা মনে নেই। একটি তিনতলা বাড়ি নির্মাণের অনুমোদনে জন্য কতো টাকা অনুমোদন ফি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওটা আমি বলতে পারবো না। অফিসের এসও মামুনের কাছে ফাইল তিনি বলতে পারবেন।
অভিযুক্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আবুল হোসেন বলেন, আমি ওই নারীর কাছ থেকে দশ হাজার টাকা নিয়েছিলাম। তবে সে টাকা আমি খাইনি। তাকে বটিশাল থেকে প্লান এনে দিয়েছি। বরিশালের কোন সংস্থা বা ইঞ্জিনিয়ার প্লান করেছে জানতে চাইলে তিনি তা বলতে পারেননি। আবার নতুন করে পাঁচ হাজার টাকা চাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন।
অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মামুন মিয়া বলেন, আমরা ওই মহিলার এক টাকাও খাইনি। সয়েল টেস্ট, প্লান, সরকারি জমা এবং আবেদনের জন্য নানা খাতে প্রায় ৪৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সয়েল টেস্ট, প্লান কোন সংস্থা করেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাই এত কিছুর দরকার কি? বাড়ি অনুমোদনে আবেদন ফি পার স্কয়ার ফুট কতো জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফাইল না দেখে বলা যাবে না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক অমিত দত্ত জানিয়েছেন, সরকারি ফি ছাড়া কোনো টাকা নেয়ার নিয়ম নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
