সুন্দরবনে ২ দিনে ২০ বনজীবীকে অপহরণ

সুন্দরবনে ২ দিনে ২০ বনজীবীকে অপহরণ

ফন্ট সাইজ:

গত দুই দিনে সুন্দরবনের নদীতে মাছ-কাঁকড়া শিকার এবং মধু আহরণের সময় ২০ জন জেলে-মৌয়ালকে অপহরণ করেছে বনদস্যুরা। তবে এখন পর্যন্ত ১৬ জেলে ও মৌয়ালের নাম পরিচয় পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সুন্দরবননির্ভর বনজীবীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

গতাকল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গহীন সুন্দরবন থেকে লোকালয়ে ফিরে আসা অপহৃত মৌয়ালদের (মধু সংগ্রহকারী) সঙ্গে থাকা সহযোগীরা এ তথ্য জানান। অপহৃত বনজীবীদের সহযোগী ইমরান হোসেন, আব্দুল্লাহ ও আকবরের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে-গত সোমবার সকাল থেকে গত মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত সুন্দরবনের অভ্যন্তরীণ চুনকুড়ি নদীর গোয়ালবুনিয়া দুনের মুখ, ধানো খালীর খাল, মামুন্দো নদীর মাইটভাঙা খাল ও মালঞ্চ নদীর চালতেবাড়ি খালে মাছ-কাঁকড়া শিকার ও মধু আহরণের সময় সশস্ত্র বনদস্যুরা আসে। তারা নিজেদের আলিফ বাহিনী ও ডন বাহিনী পরিচয় দিয়ে মুক্তিপনের দাবীতে প্রতিটি নৌকা থেকে একজন করে জিম্মি করে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে যায়।

নাম পরিচয় পাওয়া অপহৃত বনজীবীরা হলো-সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার চুনকুড়ি এলাকার মোস্তফা কামালের ছেলে আল-মামুন (১৬), খালেক মোল্লার ছেলে মনিরুল মোল্লা (২৬), গণেশ মন্ডলের ছেলে সঞ্জয় মন্ডল (২৫), সুবল মন্ডলের ছেলে হৃদয় মন্ডল (৪৭), মৃত আব্দুল হাইয়ের ছেলে রবিউল ইসলাম বাবু (৩৫), হামিদ উল্লাহর ছেলে রবিউল ইসলাম (২৪), দাউদ গাজীর ছেলে শুকুর আলী (৩২), হুমায়ুন (২৭), হেতালখালি এলাকার কাওসার গাজীর ছেলে আব্দুল সালাম (৪৫), আবু কাওসারের ছেলে আবুল কালাম (৪৭), বড় ভেটখালী এলাকার শাহাজান গাজী (৫০) ও সিরাজ গাজী (৪০), জুলফিকার মোড়লের ছেলে আবুল বাসার বাবু (৩৭), ছোট ভেটখালী এলাকার আলমগীর হোসেনের ছেলে আল-আমিন (৩৫), ইব্রাহিম গাজী (৫৫) এবং হরিনগর এলাকার মুরশিদ আলম (৩৫)।

এছাড়াও নিরাপত্তার স্বার্থে অপহৃত বাকী বনজীবীদের পরিচয় প্রকাশ করেননি সহযোগীরা। জানা যায়, অপহরণের পরপরই বনদস্যুরা কয়েকজন ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করেছে। এরমধ্যে ইব্রাহিমের জন্য ৩০ হাজার টাকা, মুরশিদের জন্য ১ লাখ টাকা এবং আব্দুল সালামের জন্য ২৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। তবে অন্য অপহৃতদের বিষয়ে এখনো কোনো দাবি জানায়নি বনদস্যুরা। ভুক্তভোগীদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে-একই বাহিনীর বিরুদ্ধে এর আগেও সুন্দরবনে অপহরণ, মুক্তিপণের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে বনদস্যুরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে, সুযোগ পেলেই জেলে-মৌয়ালদের অপহরণ করছে।

স্থানীয় বনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি আগের তুলনায় আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এখন বনদস্যুরা শুধু মানুষ অপহরণেই সীমাবদ্ধ নেই তারা বনজ সম্পদ লুটপাট এবং বন্যপ্রাণী শিকারের মতো অপরাধেও জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা ফজলুল হক বলেন-বনজীবী অপহরণের খবর আমরা শুনেছি। তবে অপহৃতদের জীবনের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাদের পরিবার বা সহযোগীরা বিস্তারিত তথ্য দিতে অনীহা দেখাচ্ছেন।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন