মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে চালু করা সামরিক এসকর্ট কার্যক্রম তিনি সাময়িকভাবে স্থগিত করছেন।
তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত চুক্তির দিকে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। এ জন্য এ কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, সোমবার থেকে উপসাগরে আটকে পড়া তেলবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনতে এই উদ্যোগ শুরু হয়েছিল। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স, এএফপি।
হরমুজ প্রণালি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় বন্ধ। ফলে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লিখেছেন, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের অনুরোধ, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের অসাধারণ সাফল্য এবং ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তির অগ্রগতির কারণে পারস্পরিকভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে- অবরোধ বহাল থাকলেও ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ (হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল) সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হবে। এই ঘোষণার বিষয়ে তেহরান থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্পের ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম ২.৩০ ডলার কমে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে যায়। যা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। ইরান ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অভিযানের পর থেকে কার্যত হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। এর পাল্টা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর অবরোধ করেছে এবং বাণিজ্যিক জাহাজকে সামরিক এসকর্ট দেয়া শুরু করে।
এই এসকর্ট মিশন যাকে ট্রাম্প প্রজেক্ট ফ্রিডম নাম দিয়েছেন তা ইরানের হামলার মুখেও পড়ে। ফলে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড নৌবাহিনী সতর্ক করে বলেছে, তাদের নির্ধারিত পথ অনুসরণ না করলে কঠোর জবাব দেয়া হবে।
মার্কো রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক অভিযানের লক্ষ্য অর্জন করেছে। অপারেশন এপিক ফিউরি শেষ হয়েছে। আমরা নতুন কোনো সংঘাত চাই না। তিনি আরও বলেন, এটি আক্রমণাত্মক নয়, বরং প্রতিরক্ষামূলক অভিযান। আমাদের ওপর আগে গুলি না চালালে আমরা গুলি চালাব না।
ট্রাম্পের অন্যতম লক্ষ্য ছিল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা। যদিও ইরান এমন কোনো পরিকল্পনা থাকার কথা অস্বীকার করেছে। তবে ইরান এখনো ৯০০ পাউন্ডের বেশি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করেনি।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সফলভাবে জাহাজ চলাচলের পথ নিরাপদ করেছে এবং শত শত বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য অপেক্ষা করছে।
মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন বলেন, ইরানের হামলা এখনো বড় ধরনের যুদ্ধ পুনরায় শুরুর পর্যায়ে পৌঁছায়নি। যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, ইরান কী করলে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাবে- ট্রাম্প সংক্ষিপ্তভাবে জবাবে বলেন, তারা জানে কী করা উচিত নয়।
