হরমুজে ‘কামিকাজে ডলফিন’ ব্যবহার করবে ইরান!

হরমুজে ‘কামিকাজে ডলফিন’ ব্যবহার করবে ইরান!

ফন্ট সাইজ:

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের মাইন বসানোর আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে প্রশ্ন করা হয়-ইরান কি ‘ডলফিন’ ব্যবহার করে মার্কিন নৌবাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা চালাতে পারে? ধারণাটি পুরোপুরি অবাস্তব নয় বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ অতীতে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ সংঘাতপূর্ণ এলাকায় ‘কামিকাজে ডলফিন’ ব্যবহারের ধারণা নিয়ে কাজ করেছে। যদিও সেটা সরাসরি অস্ত্র হিসেবে নয়।

পিট হেগসেথ এই ধারণা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, তিনি নিশ্চিতভাবে বলতে পারেন যে ইরানের কাছে এমন কোনো ডলফিন নেই যা তারা সামরিক অভিযানে ব্যবহার করতে পারে। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিষয়ে সরাসরি কিছু বলতে চাননি। তিনি বলেন, আমাদের কাছে কামিকাজে ডলফিন আছে কি না, তা আমি নিশ্চিত বা অস্বীকার করতে পারি না। তবে এটুকু বলতে পারি, ইরানের নেই।

এই বিষয়টি প্রথম সামনে আনে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। তারা ৩০ এপ্রিল এক প্রতিবেদনে দাবি করে ইরানের কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা মাইন বহনকারী ডলফিন ব্যবহার করে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলা চালাতে পারে। তবে বাস্তবে ইরানের এমন সক্ষমতা আছে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

অন্যদিকে মার্কিন নৌবাহিনী বহু দশক ধরে ডলফিন প্রশিক্ষণের একটি কর্মসূচি চালাচ্ছে। এই কর্মসূচি মেরিন ম্যামাল প্রোগ্রাম, নেভাল ইনফরমেশন ওয়ারফেয়ার সেন্টার প্যাসিফিকের অধীনে পরিচালিত হয়। তবে এই ডলফিনগুলো কামিকাজে নয়। অর্থাৎ তারা আত্মাহুতি দিয়ে বিস্ফোরণ ঘটায় না। বরং তাদের কাজ হলো পানির নিচে মাইন শনাক্ত করা।

সিএনএনের প্রতিবেদন
সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার প্রচেষ্টায় মার্কিন সেনাবাহিনী বর্তমানে ডলফিন ব্যবহার করছে না। যুুক্তরাষ্ট্র একমাত্র দেশ নয় যারা সামরিক কাজে সামুদ্রিক প্রাণী ব্যবহার করেছে। অতীতে রাশিয়া বন্দর পাহারায় ডলফিন ব্যবহার করেছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান ২০০০ সালে ডলফিন কিনেছিল। তবে এখন সেগুলো ব্যবহারের উপযোগী থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। এছাড়া বর্তমানে ইরানের সক্রিয় কোনো ডলফিন প্রোগ্রামের প্রমাণও নেই।

ডলফিনের বিশেষ ক্ষমতা
মার্কিন নৌবাহিনীর এই কর্মসূচি ১৯৫৯ সাল থেকে চালু রয়েছে। এতে বোতলনোজ ডলফিন ও ক্যালিফোর্নিয়া সি লায়নকে পানির নিচে বস্তু শনাক্ত ও উদ্ধার করার জন্য প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। প্রোগ্রামের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ডলফিনের ছোনার ক্ষমতা ‘বিজ্ঞানে পরিচিত সবচেয়ে উন্নত’।

ওয়েবসাইটে বলা হয়, পানির নিচের ড্রোনও অনেক সময় এই প্রাণীদের সমকক্ষ নয়। ডলফিন ও সি লায়নের রয়েছে অত্যন্ত উন্নত কম আলোতে দেখার ক্ষমতা এবং পানির নিচে দিকনির্দেশনা শনাক্ত করার শ্রবণশক্তি, যা তাদের অন্ধকার বা ঘোলা পানিতেও লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে সাহায্য করে। ডলফিনদের বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় পানির নিচে থাকা মাইন খুঁজে বের করতে এবং তার অবস্থান চিহ্নিত করতে, যা সামরিক বা বেসামরিক জাহাজের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন