সংযুক্ত আরব আমিরাতে সম্ভাব্য ইরানের হামলার পরিকল্পনা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরান সৌদি আরব ও ওমানকে জানিয়েছে যে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ওপর মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের জবাবে তারা আমিরাতকে (ইউএই) কঠোর নিশানা করার পরিকল্পনা করছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে অতর্কিত হামলা শুরু করে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে ইরান ইসরাইলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালায়। এসব দেশের মধ্যে সবচেয়ে আরব আমিরাতে বেশি হামলা চালিয়েছে তেহরান।
এরইমধ্যে মঙ্গলবার আরব আমিরাতের ফুজাইরা পেট্রোলিয়াম স্থাপনায় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। ফুজাইরার মিডিয়া অফিস দাবি করেছে, ইরান থেকে ড্রোন হামলার পর আমিরাতের পেট্রোলিয়াম শিল্প এলাকায় ‘বড় আগুন লেগেছে’।
আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া ১৫টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং চারটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এসব হামলায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছে।
আরব আমিরাতে হামলার ঘটনায় ইতিমধ্যে নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তান ও ভারত। তবে আরব আমিরাতে এসব হামলা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি ইরান।
সম্প্রতি জ্বালানি তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সংগঠন ওপেক থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয় আরব আমিরাত। এতে সৌদি আরবের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক আরও খারাপের দিকে ধাপিত হয়।
এ ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আমিরাত ও সৌদিকে ঐক্যবদ্ধ করার পরিবর্তে দেশ দুইটির মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
ইরানি কর্মকর্তারা এক আলাপচারিতায় সৌদি কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, আরব আমিরাতকে তারা গুঁড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করছেন। এ সময় তারা আবুধাবির সঙ্গে রিয়াদের বিরোধের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তবে প্রতিবেদনে আলাপচারিতার সঠিক সময় উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় আরব আমিরাতের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে। যুদ্ধকালীন সময় আরব আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে দেশটিতে লেজার প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও অন্যান্য উন্নত অস্ত্র সরবরাহ করেছে ইসরাইল।
এ ছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়ার খবরে বলা হয়, ইরানে দীর্ঘসময় যুদ্ধ চালিয়ে দেশটিকে পঙ্গু করতে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দিয়েছে আরব দেশগুলো। তারমধ্যে অন্যতম হচ্ছে আরব আমিরাত।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলছে, ইরানের হামলার মুখে আরব আমিরাত এখন বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। তবে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে বলেছেন যে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ৯ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হলেও সেই প্রস্তুতি আবুধাবি নিয়ে রেখেছে।
