নবীগঞ্জে পানির নিচে কৃষক-কৃষাণীর স্বপ্ন

নবীগঞ্জে পানির নিচে কৃষক-কৃষাণীর স্বপ্ন

ফন্ট সাইজ:

চোখমুখে হতাশার চাপ। বুকফাটা আর্তনাদ। ঋণের দুশ্চিন্তায় কাবু। দু’বেলা পেট ভরে খাবারটুকুও নেই ঘরে। কী খাবো আর ঋণই বা কীভাবে দেবো—এ চিন্তায় মাথায় হাত পড়েছে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের মিল্লিক গ্রামের কৃষক ইসমত উল্লাহর। চল্লিশ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে প্রায় বারো কিয়ার জমি বর্গা নিয়ে বোরো ধান আবাদ করছিলেন বেরির হাওরে। এর মাঝে দুই কিয়ার জমির পাকা ধান আনলেও বাদ বাকি ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, স্বপ্ন ছিল বারো কিয়ার জমির ধান ঘরে  তুলে ঋণ শোধ করে ছেলেসন্তানকে নিয়ে দু’বেলা পেট ভরে খেয়ে-পরে বছরখানেক পার হবে। কিন্তু অতিবৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে সব স্বপ্ন পানির নিচে চলে গেছে। প্রতি কিয়ারে ঋণ করে দশ থেকে বারো হাজার টাকা খরচ করলেও এখন সেই ঋণের বোঝা গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একই ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী তাড়ানগাঁও গ্রামের কৃষাণী সন্ধ্যা রানী দাশ জানান, এনজিও সংস্থা এবং পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়ে বর্গাচাষে বোরো ধান আবাদ করেছিলেন। স্বপ্ন দেখছিলেন পাকা ধান ঘরে তুলে ঋণ পরিশোধ করে স্বচ্ছলতার মুখ দেখবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে যায় ধান ঘরে তোলার আগ মুহূর্তেই। পুরো ফসল তলিয়ে যায় পানির নিচে। এখন ঋণের বোঝা, আর দশজনের সংসার চালানোর চাপে দুর্বিষহ অবস্থায় দিন কাটছে তার।

এদিকে গত কয়েকদিনের অব্যাহত বৃষ্টিপাতে হাওর অঞ্চলে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে আগাম বন্যা হয়েছে অনেক এলাকায়। হাওরের পাশাপাশি উপজেলার নিম্নাঞ্চল এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে পাকা ধান ঘরে তুলতে না পারা কৃষক ইসমত উল্লাহ ও সন্ধ্যা রানী দাশই নয় শুধু, নবীগঞ্জের হাওর অঞ্চলের অধিকাংশ কৃষকের গল্প প্রায় একই। কোথাও পাকা ধান তলিয়ে গেছে পানিতে, আবার কোথাও কাটা ধান খলায় শুকাতে না পেরে নষ্ট হচ্ছে বৃষ্টিতে। ফলে পাকা ফসল হারিয়ে অনেক কৃষকই আর্থিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ১৮ হাজার ৯৫৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে ভারি বৃষ্টিপাতে ৭৫০ হেক্টর জমির ধান পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও প্রায় ১ হাজার ২শ হেক্টর জমি।

নবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ ফজলুল হক মনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন। তালিকা প্রস্তুত শেষে তা দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন