নান্দাইলে অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত ২৭০ হেক্টর জমির ধান

ফন্ট সাইজ:

ময়মনসিংহের নান্দাইলে অতিবৃষ্টি এবং অপরিকল্পিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে কয়েকশ’ হেক্টর জমির পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। বিল ও হাওর অঞ্চলে কৃষকের হাড়ভাঙা খাটুনির সোনালি ফসল এখন পানির নিচে, যা দেখে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন, খাল দখল এবং পানি প্রবাহের পথ বন্ধ করে বাড়িঘর নির্মাণ এই অকাল বন্যার প্রধান কারণ।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর নান্দাইলের ১৩টি ইউনিয়নে মোট ২২ হাজার ২৯৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক টানা বর্ষণে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় প্রায় ৯০০ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৭০ হেক্টর জমির পাকা ও আধাপাকা ধান সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং শ্রমিক সংকটের মাঝেও কৃষকরা মরিয়া হয়ে আধাপাকা ধান কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার রাজগাতী ইউনিয়নের যুগের হাওর ও দুল্লিবিল; গাংগাইল ইউনিয়নের দলিঘাট বিল; চণ্ডিপাশা ইউনিয়নের ঝালিয়া ও ছেতারার বিল; নান্দাইল ইউনিয়নের বলদা ও গজারিয়া বিল এবং খারুয়া ইউনিয়নের কালিয়াদাইর বিলের অধিকাংশ ফসল এখন পানির নিচে। কৃষকদের দাবি, নদী-নালা ও খালের নাব্য কমে যাওয়া এবং প্রভাবশালী মহলের খাল-বিল দখল করে অপরিকল্পিত পুকুর খনন ও বাড়ি নির্মাণের কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই এই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।
এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাঈমা সুলতানা জানান, অপরিকল্পিতভাবে ফিশারি তৈরি করে পানি প্রবাহের গতিরোধ, ঘরবাড়ি নির্মাণ এবং খাল-নালা দখল ও গভীরতা কমে যাওয়ার কারণে এই জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া কিছু এলাকায় দেরিতে চারা রোপণ করার কারণেও কৃষকরা ধান কাটার সময় পাননি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন