মাদারীপুর-২ (মাদারীপুর সদর ও রাজৈর) আসনের বিএনপির মনোনীত নির্বাচিত এমপি জাহান্দার আলী জাহানকে সংবর্ধনা এবং শিবচর উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার বিকালে মাদারীপুরের শিবচরে পৌর অডিটোরিয়ামে এই এমপিকে সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে এমপি জাহান্দার আলী জাহান, প্রধান বক্তা হিসেবে মাদারীপুর জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক আইনজীবী জাফর আলী মিয়া এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক চৌধুরী নাদিরা আক্তার উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. শাহাদাত হোসেন খান এবং সঞ্চালনায় দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি সোহেল রানা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শিবচর উপজেলা বিএনপির প্রয়াত নেতৃবৃন্দদের কথা স্মরণ করেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম দিপু হাওলাদার।
উপস্থিত বক্তারা বলেন, আমরা খুবই আনন্দিত ও নিজেদেরকে গর্ববোধ মনে করছি দলের সংকটময় সময় নেতৃত্ব দেয়া এমন একজন ব্যক্তিকে সংবর্ধনা দিতে পেরে। কেননা জাহান্দার আলী জাহান ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে আজ তিনি মাদারীপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও জিয়া পরিবারের একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাদারীপুর-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক চৌধুরী নাদিরা আক্তার বলেন, আজ এই মঞ্চে বসে আমার খুব বেশি মনে পড়ছে শিবচর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নাজমুল হুদা মিঠু চৌধুরীকে। তিনি ঝড় বৃষ্টি মাথায় নিয়ে দৌঁড়ে বেড়িয়েছেন এদিক থেকে ওদিক। কিন্তু শিবচর উপজেলা বিএনপি আহ্বায়ক কমিটি দেয়ার আট মাস পরও ইউনিয়ন কমিটিগুলো দেয়া হয়নি। তাই উপজেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ও ইউনিয়ন কমিটিগুলো অতি দ্রুত সম্পন্ন করা হোক।
তিনি আরও বলেন, সংসদ নির্বাচনে শিবচরে বিএনপি হারার একমাত্র কারণ বিএনপি। কেননা, যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলো তারা বিএনপির নেতৃবৃন্দ ছিলো, আর তাদের কারণে আজ বিএনপির এই পরাজয়। আগামীর দিনগুলোতে আমাদের দায়িত্ব নিতে হবে শক্ত হাতে। আর এই দায়িত্ব আপনার, আমার ও সবার।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে মাদারীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আইনজীবী জাফর আলী মিয়া বলেন, আমি আজ এখানে দুঃখ ভরা হৃদয় নিয়ে আমার বক্তব্য শুরু করলাম। দুঃখ বেশি পেয়েছি এই শিবচর নিয়ে। আপনারা জানেন, মাদারীপুরে তিনটি আসন। তারেক রহমানকে আমরা দু’টি আসন উপহার দিয়েছি, তবে আমি বেশি খুশি হতাম মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনটি উপহার দিতে পারলে। আমি এবং আপনারা সবাই জানেন, মাদারীপুর-১ আসনে নাদিরা মিঠু চৌধুরী ৩৮৫ ভোটে পরাজয় বরণ করেছেন এই আসনে- যা খুবই কষ্টের। ফলাফল শুনে আমিও অনেক কষ্ট পেয়েছি এবং নাদিরার স্বামী প্রয়াত শিবচর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল হুদা মিঠু চৌধুরী আমার খুব পছন্দ ব্যক্তি ছিলেন। তিনিও একজন নিবেদিত নেতা ছিলেন। সামনে উপজেলা পৌরসভা ও ইউনিয়ন নির্বাচন। আমাদের দায়িত্ব নিয়ে এগোতে হবে এবং আর কোনও হোঁটচ খাওয়া যাবে না।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাদারীপুর-২ আসনের এমপি ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাহান্দার আলী জাহান বলেন, আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি এমন একটা অনুষ্ঠানে আসতে পেরে। আমি দলের নেতা নয়, আপনাদের সারিতে একজন কর্মী হয়ে থাকতে চাই। আমার খুব খারাপ লাগছে অল্প কিছু ভোটের ব্যবধানে আমাদের এই শিবচর আসনটি বিএনপি থেকে হাত ছাড়া হয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমান আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী। তিনি দেশের হাল ধরেছেন। তার নেতৃত্বে আমরা দায়িত্বে আছি বিভিন্ন স্থানে। আমাদের এই দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে। আপনারা বিগত দিনে অনেক কষ্ট করেছেন, অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তবুও কখনও দল ছেড়ে যাননি। আমি চেষ্টা করবো জেলা থেকে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি শিবচরে রাখার জন্য। মনে রাখবেন নিজের স্বার্থের জন্য কোনও কাজ করে দলের সম্মান নষ্ট করা যাবে না। কারণ বিএনপি একটি বৃহৎ পরিবার আর আমরা এই পরিবারের সদস্য।
মতবিনিময় সভায় উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক জহের গোমস্তা, শহিদুল ইসলাম দিপু, শহীদুল ইসলাম মৃধা, আবুল বাসার সিদ্দিক, আজমল হুদা ইথু চৌধুরী, বাকাউল করিম খান, শাহাদাত হোসেন শফিক, আবদুল হান্নান মিয়া, মোতাহার হোসেন হাওলাদার, মাদারীপুর সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মুর্তজা রহমান ঢালী, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আবুল কালাম মল্লিক, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হেমায়েত হোসেন খান, পৌর সদস্য সচিব আজমল হোসেন খান সেলিম, উপজেলা ছাত্রলের আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ খান তুরাগ ও সদস্য সচিব সাইদুর রহমান বেপারী, যুবদল কর্মী শাহীন গোমস্তা, মহিম বেপারী, তাইজুল ইসলাম খান সজীব, উপজেলা মহিলাদলের আহ্বায়ক সুহাদা আক্তার ও সদস্য সচিব শিল্পী আক্তার নীলাসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের জেলা এবং উপজেলার হাজার হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
