দুই ডাক্তার, চার নার্স দিয়ে চলছে কেরানীগঞ্জের ২০ শয্যার হাসপাতাল

দুই ডাক্তার, চার নার্স দিয়ে চলছে কেরানীগঞ্জের ২০ শয্যার হাসপাতাল

ফন্ট সাইজ:

ঢাকার কেরানীগঞ্জে জিনজিরা ইউনিয়নে গত বিএনপি সরকারের আমলে ১০ শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতাল উদ্বোধন করেছিলেন তখনকার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। পরবর্তীতে হাসপাতালটি ২০ শয্যায় উন্নীত হয়। আউটডোর চালু থাকলেও ওই সময় ইনডোর চালু হয়নি। বর্তমানে একজন মেডিকেল অফিসার ও একজন কনসালটেন্ট ডাক্তার ও চারজন নার্স দিয়ে চলছে এই হাসপাতাল।

জনবহুল জিনজিরা ইউনিয়নের শত শত লোক প্রতিদিন বিভিন্ন রোগের সমস্যা নিয়ে আসেন হাসপাতালে। একজন মেডিকেল অফিসার, একজন কনসালটেন্ট ডাক্তার এবং চারজন নার্স দিয়ে প্রতিদিন ৪-৫শ’ রোগীর বিভিন্ন সেবা প্রদান করতে হয়। হাসপাতাল ভবনের বিভিন্ন টয়লেটগুলো সংস্কারের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ওটিতে থাকা বিভিন্ন মেশিনগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাক্তার পুষ্পিতা শারমিন জানান, জিনজিরা হাসপাতালে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫শ’ জন রোগী আসে। আমরা সাধ্য অনুসারে রোগীদের সেবা দেই। বিনা টিকিটে রোগীদের দেখা ও তাদেরকে ওষুধ সরবরাহ করা হয়। তিনি আরও জানান, হাসপাতালে কোনো সিকিউরিটি গার্ড না থাকায় তাদের অনেক ভয়ে ভয়ে কাজ করতে হয়, এমনকি হাসপাতালের ভেতরে অনেক নেশাখোর ও নেশা করে বলে তিনি জানান। হাসপাতালে কর্মরত অপর ডাক্তারের নাম হলো গাইনি কনসালটেন্ট সুরভী হালদার।

হাসপাতালে কর্মরত নার্সরা হলেন- সাবরিনা আক্তার রুমি, চিত্রা রানী, আঁখি খাতুন ও কামনা বেগম। নার্স চিত্রা রানী বর্তমানে রোগীদের ওষুধ সরবরাহের কাজে কর্মরত আছেন। হাসপাতালের আরএমও মাহফুজা বর্তমানে ডেপুটেশনে ঢাকা মেডিকেলে কর্মরত আছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল মোকাদ্দাস জানান, জিনজিরা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল ২০০৬ সালের ৭ই জুলাই উদ্বোধন করা হয়, তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে আউটডোর সেবা চালু হয়। তারপর থেকে সেখানে বহির্বিভাগের স্বাস্থ্য সেবা চালু আছে। আন্তঃবিভাগের স্বাস্থ্যসেবা চালু নেই। এটা একটি চারতলা ভবন ও পূর্ণাঙ্গ ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল। জনবল ও নিরাপত্তার জন্য এখানে আন্তঃবিভাগের স্বাস্থ্য সেবা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। এখানে পাঁচজন ডাক্তার আছেন। ডেপুটেশনে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে আছেন তিনজন। বর্তমানে একজন কনসালটেন্ট ও একজন মেডিকেল অফিসার দিয়েই এই হাসপাতাল চলছে। জিনজিরা একটি জনবহুল এলাকা। হাসপাতালের আন্তঃবিভাগ চালু করা একান্ত প্রয়োজন। হাসপাতালের আন্তঃবিভাগ চালু হলে এই এলাকার লোকজন উপকৃত হবে।


ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন