এ যেন তীরে এসে তরী ডুবলো। চাষিদের চোখের সামনেই ধীরে ধীরে পাকা-আধপাকা বোরো ধানের সমাধি ঘটলো। ঘরে তোলার সময় হঠাৎ টানা ভারী বর্ষণ আর উজানের ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে সোনালি ফসল বোরো। আর পানির সঙ্গে যুদ্ধ করে যে ধান সংগ্রহ করেছিলেন গেল ক’দিন রোদ না থাকায় ও নিরবিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ না পাওয়ায় তাও পচে নষ্টে হচ্ছে। বোরো ধান হারানোর বেদনায় এখন হাওর জুড়ে কৃষক পরিবারের কেবল কান্না আর আহাজারি। জেলার হাকালুকি, কাউয়াদিঘি ও হাইল হাওর ৩টি হাওরেরই দৃশ্য একই। গেল প্রায় ৬-৭ দিন থেকে পাকা-আধপাকা বোরো ধান ৩-৪ ফুট পানির নিচে।
কৃষি বিভাগ বলছে, সপ্তাহ দিন পর পানিতে ডুবে থাকা ধান আর ভালো থাকার সম্ভাবনা নেই। তার ওপর থেমে থেমে মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এ বছর বোরো ধানের ফলন ভালো হওয়ায় চাষিদের মুখে ছিল আনন্দের হাসি। কিন্তু এই আনন্দে ভাটা পড়েছে টানা ভারী বর্ষণে। ক’দিন থেকে চলমান থেমে থেমে টানা ভারী বর্ষণে পানিতে টইটুম্বর জেলার নদী ও হাওর।
আমাদের সবই কেড়ে নিয়েছে। সারা বছরের সম্বল চোখের সামনেই ডুবেছে। এ বছর পরিবার পরিজন নিয়ে খাবো কী? সংসার চালাবো কী করে? হাকালুকি হাওরের বেড়কুঁড়ি এলাকার বোরো চাষি মানিক মিয়া (৪৮), জাবদার এলাকার মবশ্বির আলী (৬০), আব্দুর রহিম (৭৬), বাদে ভুকশিমইল গ্রামের ফিদ্দুছ মিয়া (৫৫), তারা মিয়া (৬২), আশুক মিয়া (৫৮), শাহীন মিয়া (৪৫), ইউপি সদস্য নোমান সিদ্দিকীসহ অনেকেই ডুবে যাওয়া বোরো ধান দেখিয়ে তাদের এমন দুর্দশার কথা বলেন। হাওর রক্ষা আন্দোলন মৌলভীবাজারের সদস্য সচিব খছরু চেীধুরী বলেন, কাউয়াদিঘির ধান এখন অনেকটাই রক্ষা করা সম্ভব কেবল কাশিমপুর পাম্প হাউজ সচল রাখলে।
হাইল হাওর তীরের বাসিন্দা ও বাইক্কা বিল রক্ষায় সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি বড়গাঙ্গিনার সাধারণ সম্পাদক মিন্নত আলী জানান, হাইল হাওরের বোরো ধান এখন ৩-৪ ফুট পানির নিচে। স্বপ্নের সোনালি ফসল বোরো ধান হারিয়ে এখন তারা বিপর্যস্ত। পুরো বছরের জীবিকার এই ফসল হারিয়ে চাষিরা চরম হতাশায় নির্বাক। জানা গেল, ওই চাষিদের মধ্যে কেউ ৩ বিঘা থেকে ৫০ বিঘা, আবার অনেকেই নিজের জমিজমা না থাকায় বর্গা নিয়ে করেছিলেন বোরো চাষ। বিঘাপ্রতি ৮-৯ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল তাদের।
স্বপ্ন ছিল এ বছর ভালো ফলনের বোরো ধান ঘরে তোলার। শ্রমিক ও তেলের কারণে হারভেস্টার সংকটের মধ্যেও বৈশাখের শুরুতেই ধান কাটাও শুরু হয়েছিল। বিঘাপ্রতি ১৫-৩০ মণ ধানের ফলন হয়েছিল। এখন পর্যন্ত হাওর এলাকায় অর্ধেকের কমবেশি ধানকাটা শেষ হলেও বাকি ধান তলিয়েছে পানিতে। এখন জেলার সবক’টি হাওর জুড়ে কৃষকের নীরব কান্না আর হাহাকারের দৃশ্য।

লিমা
২ মাস আগেধান নষ্ট হলেও ধানের শিষ তো আছেই। প্রধানমন্ত্রী সিলেট এসে গেল্লেন কিন্তু ফসল ধ্বংসের ব্যাপারে কিছুই বললেন না। অন্তত আল্লাহ র নামটা নিলে ওতো হতো।