অপেক্ষায় পরিবার

অপেক্ষায় পরিবার

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্রে খুন হওয়া মাদারীপুরের তরুণী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির লাশের অপেক্ষায় পরিবার। কবে লাশ পৌঁছাবে গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার খোঁয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দপুরে সেই সময় যেন কাটছে না স্বজনদের।

৭ মাস আগে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষ করেন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। এরপর উচ্চতর ডিগ্রির জন্য পাড়ি জমান আমেরিকায়। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটিতে সুযোগ পাওয়ার সুবাধে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে সহপাঠী জামিল আহম্মেদ লিমনের সঙ্গে। সেখানে লিমনের সঙ্গে এক মার্কিন নাগরিক রুমমেটের দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এরই জেরে গত ১৬ই এপ্রিল লিমন ও বৃষ্টিকে ভার্সিটি ক্যাম্পাস থেকে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এর ৮ দিন পর শুক্রবার লিমনের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে আমেরিকার পুলিশ।

একদিন পর শনিবার ঘটনাস্থল পাওয়া রক্তের ডিএনএ পরীক্ষার শেষে বৃষ্টিকেও হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিষয়টি জানতে পেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন নিহত বৃষ্টির ভাই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার জাহিদ হাসান প্রান্ত।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হিশাম নামে যুক্তরাষ্ট্রের এক নাগরিক আটক করেছে দেশটির পুলিশ। পরে ৩০শে এপ্রিল বৃষ্টির লাশ উদ্ধার করে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। রোববার দুপুরে নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টির এমন মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন তারা। পাশাপাশি সরকারিভাবে সহযোগিতা কামনা করেছেন নিহতের পরিবার। নিহত বৃষ্টির চাচা দানিয়াল হোসেন আকন বলেন, ‘আমার ভাতিজির এমন মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। এই ঘটনায় যারা জড়িত তাদের কঠিন বিচার চাই।’

বৃষ্টির চাচাতো বোন তুলি আকন বলেন, ‘আমার বোনের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। পাশাপাশি দ্রুত যাতে লাশ দেশে ফেরত আসে সে ব্যাপারে সরকারের সহযোগিতাও কামনা করছি।’ মাদারীপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. আল নোমান বলেন, ‘আমেরিকায় খুন হওয়া শিক্ষার্থীর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দূতাবাস কাজ করছে।

এ ছাড়া নিহতের পরিবারকে সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত জেলা প্রশাসন।’
প্রসঙ্গত, মাদারীপুর সদর উপজেলার খোঁয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দপুর গ্রামে জহির উদ্দিন আকন্দের একমাত্র মেয়ে বৃষ্টি। বৃষ্টির বাবা একটি এনজিওতে চাকরির সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর মিরপুর সাড়ে ১১ পল্লবীতে বসবাস করেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন