রাজনগরের ২৫টি কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ সংকট

রাজনগরের ২৫টি কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ সংকট

ফন্ট সাইজ:

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর বেহালদশা বিরাজ করছে। উপজেলার প্রান্তিক জনগণের এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি নামেই ক্লিনিক হলেও ওষুধ সংকট চরমে। সরকারিভাবে বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদানের কথা থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশ ক্লিনিকেই রোগীদের খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে। ফলে গ্রামীণ জনপদের সাধারণ মানুষের মাঝে যেমন বাড়ছে বিভিন্ন রোগ তেমনি বাড়ছে হতাশা ও ক্ষোভ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে বিভিন্ন ক্লিনিক পরিদর্শনে জানা গেছে, রাজনগর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নে ২টি, উত্তরভাগে ৪টি, মুন্সিবাজারে ৪টি, পাঁচগাঁওয়ে ৩টি, রাজনগর ইউনিয়নে ৩টি, টেংরায় ৩টি, কামারচাকে ৩টি এবং মনসুরনগরে ৩টি কমিউনিটি ক্লিনিকসহ মোট ২৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এরমধ্যে মাত্র এক থেকে দুইটি ক্লিনিকে সীমিত পরিসরে কয়েকটি ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে; বাকি ক্লিনিকগুলো কার্যত ওষুধশূন্য অবস্থায় রয়েছে। প্রতিদিনই এসব ক্লিনিকে বিভিন্ন রোগের রোগী আসেন। তাদের স্লিপ ধরিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্লিনিকের স্টোরে প্রয়োজনীয় ওষুধ নেই। প্যারাসিটামল আর স্যালাইন ছাড়া তেমন কোনো ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। এতে গ্রামাঞ্চলের বয়স্ক, গর্ভবতী নারী ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠী এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ক্লিনিকে এসেও প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে তাদের।

ভুক্তভোগী রোগীরা জানান, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তারা কমিউনিটি ক্লিনিকের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ওষুধ না থাকায় বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে উচ্চমূল্যে কিনতে হচ্ছে। এক রোগীর ভাষায়, গরিব মানুষ হিসেবে বিনামূল্যে চিকিৎসার আশায় আসি, কিন্তু ওষুধ না থাকায় খালি হাতেই ফিরতে হয়। নিদনপুর গ্রামের বাসিন্দা ফাতিহা বেগম বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে আলসারের রোগী। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে নিয়মিত ওষুধ কিনতে পারি না। চার মাস ধরে ক্লিনিকে এসে কোনো ওষুধ পাইনি। সরকারি ক্লিনিক থেকেও যদি না পাই, তাহলে আমরা কোথায় যাবো? স্থানীয় ইমাম আব্দুন নুর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এখানে ওষুধের সংকট চলছে। আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষ এখানে আসে। কিন্তু ওষুধ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে গরিব মানুষ চরম বিপদে পড়বে। দ্রুত সরবরাহ বাড়ানো ও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।

রাজনগর উপজেলা সিএইচসিপি এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্লিনিকে কোনো ওষুধ নেই। প্রতিদিনই বহু মানুষ আসে, কিন্তু ওষুধ দিতে না পেরে তাদের ফিরিয়ে দিতে হয়। প্রায় ১০টি গ্রামের মানুষ শুধু নিদনপুর ক্লিনিকের ওপর নির্ভরশীল। চার মাস ধরে এ পরিস্থিতি চলায় আমরা স্বাভাবিকভাবে সেবা দিতে পারছি না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, তারা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা উৎপল দাশ বলেন, আমাদের এখানে ওষুধের সাপ্লাই কম । তাই সব কমিউনিটি ক্লিনিকে পর্যাপ্ত ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা চাহিদা পাঠিয়েছি। পর্যাপ্ত ওষুধ পাওয়া গেলে এ সংকট থাকবে না।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন