সরকার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করছে

সরকার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করছে

ফন্ট সাইজ:

সরকার সবার আগে আমেরিকা নীতিতেই চলছে বলে মন্তব্য করে অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ বলেছেন, তারেক রহমান বলছেন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তিগুলো দেখাচ্ছে যে সরকার ‘সবার আগে যুক্তরাষ্ট্র’ নীতি অনুযায়ী চলছে। শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘বিএনপি সরকারের আড়াই মাস: পর্যালোচনা, উদ্বেগ ও দাবিনামা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় আনু মুহাম্মদ এ মন্তব্য করেন। আলোচনা সভাটি আয়োজন করে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। এ সময় আনু মুহাম্মদ অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তিগুলো সংসদে আলোচনা ছাড়াই বাস্তবায়ন করায় সরকারের সমালোচনা করেন।

আনু মুহাম্মদ অভিযোগ করে বলেন, পেট্রোবাংলা বা বিমানের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পাশ কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এলএনজি আমদানি, বোয়িং কেনা ও বন্দর ব্যবহারের মতো জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি করা হয়েছে। যখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে খলিলুর রহমানকে নিয়োগ করা হলো এবং বিডা চেয়ারম্যান হিসেবে আশিক চৌধুরীকে রাখা হয়েছে- এরা এই বন্দর চুক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এলএনজি ও বোয়িং আমদানি চুক্তি স্বাক্ষর করার ব্যাপারে উৎসাহী ছিলেন। তারা কেন এ ধরনের একটি অবিশ্বাস্য ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি স্বাক্ষর করলেন, যার জন্য আমাদের দীর্ঘমেয়াদে ২০-৩০ বছর ভুগতে হবে? তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া বা তদন্ত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু উল্টো তাদেরকে আরও দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

আনু মুহাম্মদ বলেন, হাসিনা আমলে যেভাবে ছিল, আইন-আদালত বা এই সমস্ত বিষয়ে কোনোভাবেই কোনো পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। কী করা হবে, কী করা হবে না; সেটা দিয়ে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে যে, সরকার আইন আদালত সবকিছুতে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আদালতের রায় কী হবে তা আগেও সেটা আগ থেকে বোঝা যেতো; এখনও বোঝা যাচ্ছে আদালত কাকে জামিন দেবে, কাকে দেবে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও ছিল, এখনো আছে।

তিনি বলেন, বিচার বিভাগ সরকারের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সরকার যা চায়, আদালত তাই বলে। এই সম্পর্কের মধ্যদিয়েও বিচার বিভাগে একটি দুর্নীতি-অনিয়ম তৈরি হয়। কারণ এখানেও লেনদেনের একটি ব্যাপার থাকে। কথা শুনলে পুরস্কৃত হওয়া, কথা না শুনলে তিরস্কারের শিকার হতে হয়। এইভাবে বিচার বিভাগ একটি মেরুদণ্ডহীন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। এটা ভয়াবহ ব্যাপার। এই ভয়াবহতার ধারাবাহিকতা এখনো আছে।

তিনি আরও বলেন, এই সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল আগের সরকার অর্থাৎ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কী কী কাজ করেছে সেটি বিশ্লেষণ করে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা। কিন্তু সরকারের মধ্যে এরকম কোনো নিদর্শন আমরা দেখছি না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাজকর্ম পর্যালোচনা না করার পেছনে এটাও একটা কারণ হতে পারে যে, তাদের একটি ভয়-ভীতি থাকতে পারে যে, আমরাও তো এর অংশীদারি ছিলাম।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে আমূল পরিবর্তন আনতে প্রস্তাব তুলে ধরে আনু মুহাম্মদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী অনেক রকম প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, তিনি এখনই এই সিদ্ধান্তটা দিতে পারেন এবং এটার জন্য কোনো বাড়তি খরচও হবে না, বরং খরচ কমবে। সেটা হচ্ছে- রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপি ও সরকারি কর্মকর্তাদের সন্তানরা পাবলিক স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে। এই সিদ্ধান্তটা ঘোষণা করতে তো কোনো পয়সা লাগবে না বা বিদেশি ঋণ নিতে হবে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সামিনা লুৎফা বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান সংকট ও বৈষম্য একটি মানবিক ও সুসংগঠিত শিক্ষা আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। শিক্ষকদের মর্যাদা, পারিশ্রমিক ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য, বিশেষ করে এমপিও ও নন-এমপিও বিভাজন, শিক্ষা ক্ষেত্রকে দুর্বল করে তুলছে। লেখক ও গবেষক আলতাফ পারভেজ বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতি হলেও সীমান্ত হত্যা ও গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অমীমাংসিতই রয়ে গেছে। আয়োজিত সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা ঋতু, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া এবং আইনজীবী মানজুর আল মতিন বক্তব্য রাখেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন