নেত্রকোণায় ঝড়ে বিধ্বস্ত ৭৬৫ বসতঘর

নেত্রকোণায় ঝড়ে বিধ্বস্ত ৭৬৫ বসতঘর

ফন্ট সাইজ:

নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলে পানি বৃদ্ধি, প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। জেলার বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় ১৬ হাজার ৩৬ হেক্টর জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এরই মধ্যে কালবৈশাখী ঝড়ে জেলার ৭৬৫টি বসতঘর বিধ্বস্ত হয়ে হাজারো মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, গত ২৮শে এপ্রিল থেকে ২রা মে পর্যন্ত সময়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে খালিয়াজুড়ি উপজেলায়, যেখানে ৬ হাজার ২০০ হেক্টর জমির ধান নিমজ্জিত হয়েছে।

এ ছাড়া কলমাকান্দায় ২ হাজার ৭১৫ হেক্টর, আটপাড়ায় ১ হাজার ৬০০ হেক্টর, মদনে ১ হাজার ৫৪০ হেক্টর, কেন্দুয়ায় ১ হাজার ৩১০ হেক্টর, মোহনগঞ্জে ১ হাজার ১৫০ হেক্টর, বারহাট্টায় ৫৮২ হেক্টর, নেত্রকোনা সদরে ৪৯৫ হেক্টর, পূর্বধলায় ৩০০ হেক্টর এবং দুর্গাপুরে ১৪৪ হেক্টর জমির ফসল পানিতে ডুবে গেছে। বোরো ধান খেতের পাশাপাশি পাট ও সবজি ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়াও যারা ধান কেটেছিল রোদ না থাকায় ধান শুকাতে পারছে না।

যে কারণে ধান থেকে এখন চারা গজাতে শুরু করছে। এদিকে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ের কারণে ৮টি উপজেলায় মোট ৭৬৫টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে পূর্বধলায় ৩৮৫টি এবং দুর্গাপুরে ২৪২টি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ছাড়া আটপাড়ায় ৪০টি, বারহাট্টায় ৩৫টি, নেত্রকোণা সদরে ১৬টি, মোহনগঞ্জে ১৫টি, মদনে ১৫টি এবং কেন্দুয়ায় ৮টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ ছাড়াও গত বুধবার বিকালে খালিয়াজুড়িতে স্বামীর সঙ্গে ধানকাটা কাজে সহযোগিতা করতে গিয়ে ঠান্ডায় আক্রান্ত হয়ে খোকন বেগম নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কল্যাণপুর গ্রামের জামাল মিয়ার স্ত্রী। কেন্দুয়া উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও জমির তালিকা প্রণয়ন নিয়ে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় নেতারা অভিযোগ করেছেন, কৃষি কর্মকর্তারা সরজমিন না গিয়ে মনগড়া তালিকা তৈরি করেছেন। গত শুক্রবার বিকালে নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালী নৌকাযোগে বিভিন্ন হাওর এলাকা পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শন শেষে তিনি জানান- তার দেখা হাওরগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশ ফসল নষ্ট হয়েছে এবং সরকারি প্রতিবেদনের তুলনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি। কৃষি অফিসাররা তালিকা প্রণয়নে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন- প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে নেত্রকোণাসহ হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য তিন মাসের সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে।

এ ক্ষেত্রে দলমত নির্বিশেষে সকল ক্ষতিগ্রস্তকে সহায়তা দেয়া হবে। অপরদিকে নেত্রকোণা-২ (নেত্রকোনা সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য ডা. আনোয়ারুল হকও তার নির্বাচনী এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওর পরিদর্শন করে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন। সবমিলিয়ে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলের কৃষকরা। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ ও সহায়তা না পেলে তাদের সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন