শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং নতুন মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ হবে আজ। নতুন বছরের ঠিক ফেব্রুয়ারিতে এসে শোবিজে বিভিন্ন অঙ্গনের মানুষেরা নতুন আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন। কারণ গত দেড়টা বছর সিনেমা, সংগীত, নাটক ও মঞ্চের মানুষরা ছিলেন একটি অনিশ্চয়তায়। খুব একটা ভালো ছিলেন না তারা। কারণ বিভিন্ন স্থানে স্টেজ শো, মঞ্চ, শুটিং বন্ধ হয়েছে। কনসার্ট বাতিলের ঘটনা ঘটেছে নিয়মিত। মঞ্চ নাটক প্রদর্শনীতে এসেছে বাধা। আউডডোর শুটিংয়ে ছিল নিরাপত্তাজনিত জটিলতা। সবমিলিয়ে এখন নতুন সরকারের কাছে তারকাদের প্রত্যাশাও অনেক। নিজেদের চাওয়া ও প্রত্যাশার কথাই তারা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী খুরশীদ আলম বলেন, একটাই চাওয়া। দেশ ও দেশের সংস্কৃতি যেন আপন গতিতে চলে। কোনো বাধা যেন না আসে। পাশাপাশি সংস্কৃতির মানুষেরা বরাবরই অবহেলিত। সেদিকটায় যেন সরকার নজর দেয়।
কিংবদন্তি চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ববিতা বলেন, সরকারের কাছে একটাই চাওয়া- সব প্রতিবন্ধকতা দূর করে দেশ যেন উন্নতির শিখরে পৌঁছে যেতে পারে। পাশাপাশি একজন অভিনেত্রী হিসেবে চাইবো, নতুন নতুন সিনেমা হল তৈরি হোক। নতুন নতুন ছবি নির্মাণ ও মুক্তির ক্ষেত্রে নির্মাতা, শিল্পী ও প্রযোজকদের যেন আরও সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়। আরেক বরেণ্য অভিনেতা আবুল হায়াত বলেন, নতুন বছরের সঙ্গে সঙ্গে এবার নতুন সরকার পেলাম আমরা। তাদের কাছে প্রত্যাশা, সবার নিরাপত্তা যেন নিশ্চিত করা হয়। এটা নাগরিক অধিকার। পাশাপাশি সংস্কৃতিকর্মীরাও যেন নিজেদের মতো কাজ করতে পারেন, সেটাই চাই। কিংবদন্তি ব্যান্ডতারকা মাহফুজ আনাম জেমস্ বলেন, নতুন সরকারের কাছে চাওয়া- দেশে যেন শান্তি আসে, দেশের মানুষ যেন ভালো থাকে। কণ্ঠশিল্পী ফাহমিদা নবী বলেন, আমাদের শিল্পীদের চাওয়া খুব বেশি নেই। শিল্পীরা যেন স্বাধীনভাবে গান করতে পারে। কোনো কনসার্ট বাতিলের খবর যেন না শুনতে হয়, সেটাই চাই। পাশাপাশি গানের মানুষদের অধিকার রক্ষায় যেন সরকারিভাবে উদ্যোগ নেয়া হয়।
চলচ্চিত্রের গুণী অভিনেত্রী চম্পা বলেন, সবার আগে শান্তি চাই দেশে। সবাই মিলে যেন দেশটাকে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে নিতে পারি, সেটাই চাওয়া। চলচ্চিত্র তারকা ওমর সানী বলেন, যে দেশে হানাহানি, মারামারি থাকবে না, শান্তি বিরাজ করবে- এমন বাংলাদেশ চাই। পাশাপাশি সংস্কৃতির মানুষেরা যেন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, সেটা চাইবো। অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন বলেন, নতুন সরকারের কাছে চাওয়া- আমরা যেন একটা সাম্যের বাংলাদেশ দেখতে পাই; যেখানে থাকবে ধর্মনিরপেক্ষতা এবং যেখানে আইনশৃঙ্খলা সবার জন্য সমান হবে।
