আমতলীতে খাল দখল-ভরাটে বিপর্যয়

আমতলীতে খাল দখল-ভরাটে বিপর্যয়

ফন্ট সাইজ:

উপকূলীয় উপজেলা বরগুনার আমতলী নদী-খালনির্ভর প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ ব্যবস্থা এখন হুমকির মুখে। একসময় দুই শতাধিক খালের প্রবাহে সচল থাকা এই জনপদ আজ দখল, ভরাট, অপরিকল্পিত অবকাঠামোয় কার্যত পানিবদ্ধতার ফাঁদে আটকে পড়েছে। অবৈধ দখল, দূষণ আর ভরাটে নদী ও খালগুলো একেবারেই সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে নদী ও খাল কেন্দ্রিক খেটে খাওয়া মানুষ এখন বেকার হয়ে পড়েছেন। এসব এলাকার কৃষকরা পানির অভাবে ইরি বোরো চাষ করতে পারছে না। সরজমিন দেখা গেছে- উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এক সময়ের খরস্রোতা খালগুলো মাটি ফেলে ভরাট করে দখল করা হয়েছে। কোথাও গড়ে উঠেছে দোকানপাট ও বসতবাড়ি, কোথাও মাছের ঘের কিংবা স্থাপনা। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে এসব দখল কার্যক্রম চালিয়ে এলেও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে ওঠেনি অভিযোগ স্থানীয়দের।

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণ উপজেলার মধ্যদিয়ে প্রবাহিত ২ শতাধিক নদ-নদী ও খাল, জলাশয়, পলি জমে ক্রমেই ভরাট হয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানান- নদী ও খাল দ্বারা বেষ্টিত অত্র উপজেলায় নৌপথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে খালগুলোর ব্যাপক ভূমিকা থাকলেও বর্তমানে খালের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। জানা যায়- বিগত ২০/২৫ বছরের ব্যবধানে খালগুলো দখল হয়ে রাতারাতি কৃষিজমিতে পরিণত হয়েছে। উপজেলা ভূমি অফিস এই কাজে সহায়তা করায় খালগুলোর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়- উপজেলার আওতাধীন রামনাবাদ ও পায়রা নদী থেকে উৎপত্তি হওয়া খালগুলো ৭টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মধ্যদিয়ে শাখা-প্রশাখা ছড়িয়ে প্রবাহিত হতো। ফলে সহজেই পণ্যবহনের নৌকা ট্রলারসহ অন্যান্য নৌযান যাতায়াত করতো ও উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের জেলে পরিবার জীবিকা নির্বাহ করতো। বর্ষাকালে খালের পানি উপচে পলি মাটি ফসলি জমিতে মিশে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি করে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পেতো।

শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা তাদের ক্ষেতে সহজেই খাল থেকে সেচ দিতে পারতো। দক্ষিণাঞ্চলের আমতলী উপজেলার হলদিয়া, রামজী, সোনাউঠা, গাজীপুর ও অফিস বাজারে নৌকা ও ট্রলারযোগে পণ্য পরিবহনের জন্য খাল দিয়ে সহজেই যাতায়াত করা যেতো। কিন্তু বর্তমানে খাল দিয়ে নৌকা চলে না পড়ে না জমিতে পলিমাটি। ফলে উপজেলার হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি উর্বরতা শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার ভুক্তভোগী কৃষকরা অভিযোগ করে জানায়-উপজেলা ভূমি অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং এলাকার ভূমিদস্যুরা নামে-বেনামে খালগুলো বন্দোবস্ত করে নিয়েছে। খালগুলোর মাঝে অপরিকল্পিত বাঁধ ও কালভার্ট নির্মাণ করায় ভরাট হয়ে গেছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে এলাকায় তীব্র পানির সংকট দেখা দেয়। নাব্য হারানোর কারণে অধিকাংশ খালই শুকিয়ে যাচ্ছে। ভুক্তভোগীরা কোনো ড্রেজিং না করায় প্রায় খালই ভরাট হয়ে গেছে। এই সুযোগে এলাকার ভূমিদস্যুরা খাল দখলের উৎসবে মেতে উঠেছে। উপজেলার হলদিয়া, চাওড়া, গুলিশাখালীসহ ৭টি ইউনিয়নের খালগুলো প্রভাবশালী ভূমিদস্যুরা ভূমি অফিসের সহযোগিতায় বন্দোবস্ত নিয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা ধরা’র সদস্য সচিব সাংবাদিক মুশফিক আরিফ বলেন- খাল-বিল ধ্বংস মানেই প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হওয়া। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত বরগুনার জন্য এটি আরও ভয়াবহ বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী মুঠোফোনে বলেন- এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন