লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে বোন-ভগ্নিপতি এবং তাদের সন্তানদের কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকালে বাবা ও ভাইসহ ছয়জনকে আসামি করে লক্ষ্মীপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করা হয়েছে। ওইদিন বিকালে ভুক্তভোগী পরিবার কমলনগর প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। এর আগে, মঙ্গলবার রাতে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে কমলনগরের পার্শ্ববর্তী ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরমনসা গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে ট্রাক্টর ট্রলি দিয়ে বোনের বসতঘর ভাঙচুর করে ভাইয়েরা। এ সময় নিজের বাবাও উপস্থিত ছিলেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের বেলালের স্ত্রী মনি বেগম বলেন, তিনি ২০১১ সালে তার বাবা মনছুর আহম্মদ থেকে ১৯ শতাংশ জমি কিনেন। ওই জমিতে তখন থেকে বসতঘর তৈরি করে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু বাবা মুনছুর আহমেদ জমি রেজিস্ট্রি করে দেয়ার সময় ১৯ শতকের মধ্যে ১০ শতক দেয়। বাকি ৯ শতাংশ জমি পরে রেজিস্ট্রি করে দেবে বলে জানানো হয়। এ নিয়ে এলাকায় বহুবার সালিশ বৈঠক হয়। তবুও ওই জমি রেজিস্ট্রি না দিয়ে ভাইদের রেজিস্ট্রি করে দেয়। ভাইয়েরা একই জমি অন্য লোকদের নিকট বিক্রি করে দেয়। এর মাঝে গত দুই-তিন বছর থেকে বহুবার ভাইয়েরা আমার রান্নাঘরসহ বসতঘর ভাঙচুর করে তার পরিবারকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করে।
মনি বেগম বলেন, সোমবার তার স্বামী বেলাল স্থানীয় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে তার ভাই মো. মিজান, মো. ফারুক, বাবা মুনছুর আহমেদ, ভগ্নিপতি জহির, ভাগ্নে মান্নান ও রিয়াজ দেশীয় অস্ত্র ও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়। ?তার চিৎকার শুনে তিনি ও তার ছেলে উদ্ধার করতে গেলে তাদেরও পিটিয়ে জখম করে। পরে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- মনি বেগমের স্বামী বেলাল হোসেন ও বেলালের ভাই জাকির হোসেন প্রমুখ।
