নিষেধাজ্ঞা শেষ আজ মেঘনা তেতুলিয়ায় মাছ শিকারের প্রস্তুতি

ফন্ট সাইজ:

মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদী অববাহিকায় জাটকা সংরক্ষণে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস অভয়াশ্রম এলাকায় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার। নিষেধাজ্ঞার শেষে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া পাড়ের জেলেরা ইলিশ ধরার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে চরফ্যাশন উপজেলার প্রায় অর্ধলক্ষ জেলে নদীতে মাছ ধরতে নদী উপকূলে অপেক্ষা করছেন। যার ফলে চরফ্যাশনের জেলে পল্লীগুলোতে এখন জেলে ও মাঝিমাল্লাদের উৎসব মুখর পরিবেশ লক্ষ করা গেছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে চরফ্যাশন উপজেলার বৃহৎ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র সামরাজ মৎস্যঘাট, নতুন স্লুইসগেট মৎস্যঘাট,মাইনুদ্দি মৎস্যঘাট এলাকার জেলে পল্লীতে ঘুরে জেলেদের ইলিশ ধরার প্রস্তুতি দেখা যায়। জেলেরা জাল মেরামত করছেন, মিস্ত্রিরা নৌকা মেরামত ও ইঞ্জিন মেরামতসহ অনেক জেলেকে নৌকা নদীতে নামাতেও দেখা গিয়েছে। কেউ কেউ বরফ সংগ্রহ আবার কেউ ডিজেল সংগ্রহ করতেও দেখা যায়।

নতুন স্লুইসগেট মৎস্যঘাটের জেলে হরমুজ আলী বলেন, মৎস্য অবরোধ (নিষেধাজ্ঞা) মানলেও আমাদের জীবিকা চালাতে অনেক কষ্ট হয়েছে। নৌকার মাঝি কাশেম বক্স বলেন, জাল-নৌকা প্রস্তুত করেছি নদীতে ইলিশ ধরার জন্য। কিন্তু সরকারি নিষেধাজ্ঞা মানলেও সরকারি সহায়তা আমাদের দেয়া হয়নি। সামরাজ মৎস্যঘাটের জেলে শাহ আলম বলেন, জাল ও নৌকা মেরামতে ঋণ নিয়েছি। নদীতে যদি ইলিশ পাওয়া যায় তাহলে ঋণ শোধের পাশাপাশি সংসারও চলবে।

মাইনুদ্দিঘাটের জেলে শফিউল্লাহ হাজি বলেন, ঋণ করে ছোট একটি ট্রলার তৈরি করেছি। আমার বোটে ৭-৮জন স্টাফ কাজ করে। ইলিশ পেলে আমাদের সংসার চলবে, না হয় কিস্তি নিয়ে বিপাকে পড়তে হবে। যে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে তাতে সংসার চালানো দায় হয়ে গিয়েছে। চরফ্যাশন উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, নিষেধাজ্ঞার দুই মাসে ভোলার ভেদুরিয়া থেকে চর রুস্তম পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার ও ইলিশা থেকে চর পিয়াল পর্যন্ত ৯০ কিলোমিটার অভয়াশ্রম এলাকায় আমরা জেলাভিত্তিক দিন ও রাতে অভিযান পরিচালনা করেছি। যেসব জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধ জাটকা শিকার করেছে সেইসব জেলেকে জেল ও জরিমানার দন্ড দেয়া হয়েছে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন