মৌলভীবাজারে মনুনদীর ভাঙনে ৭টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আখাইলকুড়া ইউনিয়নের চাঁনপুর ও শাওইজুরী এলাকায় মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ ভাঙন দেখা দেয়। এতে মনুনদীর তীরবর্তী চাঁনপুর ও শাওইজুরী জামে মসজিদ, কবরস্থানসহ পার্শ্ববর্তী আরও ৭টি বাড়ি ভাঙনের কবলে পড়ে। এরমধ্যে বসতঘরসহ কয়েকটি বাড়ির আংশিক নদীগর্ভে বিলীন হয়। ওই সময় স্থানীয় বাসিন্দারা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় এগিয়ে আসেন। তাদের বসতঘরের আসবাবপত্র দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নেন। সকলের সহযোগিতায় প্রাণহানী ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে তারা রক্ষা পান।
গতকাল সরজমিনে চাঁনপুর ও শাওইজুরী এলাকার ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় দীর্ঘদিন থেকে তাদের আশপাশ প্রায় অর্ধকিলোমিটার নদীর তীরবর্তী এলাকা ও বাঁধ চরম ঝুঁকিতে থাকলেও তা সংস্কার করা হয়নি। নদীর দক্ষিণপাড়ে দীর্ঘ চর জেগে ওঠায় তা অপসারণ না করায় নদীর গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় এই দু’টি গ্রামসহ আরও কয়েকটি গ্রাম নদীভাঙনে চরম হুমকিতে রয়েছে। দুর্ভোগগ্রস্ত ওই এলাকার বাসিন্দারা জানান- পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে একাধিকবার ধরনা দিয়েও কোনো কাজ হয়নি। তারা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন- শুষ্ক মৌসুমে এখানে সংস্কার কাজ হলে আজকে মসজিদ, কবরস্থান ও বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হতো না। নদীভাঙনের খবর পেয়ে এখন সবাই যেভাবে আসছেন ও সাড়া দিচ্ছেন আগে এলে এমনটি হতো না। তারা জানান- মঙ্গলবার রাত থেকে ভাঙনের শিকার হয়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে কয়েকটি বসতঘর। ভাঙন চরম ক্ষতিগ্রস্থ হয় একাধিক বাড়ি। ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন- চাঁনপুর ও শাওইজুরী মতাই মিয়া, মছলম মিয়া, খাদিজা বেগম, রসময় মালাকার, হরিময় মালাকার, শুকময় মালাকার, আরতি রানী মালাকার। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন অলিদ মানবজমিনকে বলেন- ভাঙন রোধে আমাদের কাজ চলমান রয়েছে।
ওই এলাকার ৪শ’ মিটার উন্নয়ন কাজ আমাদের প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। বিষয়টি আমাদের তদারকিতে আছে। এ বিষয়ে মৌলভীবাজার সদর
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাজীব হোসেন মানবজমিনকে জানান- খবর পেয়ে আমরা জেলা প্রশাসক স্যারসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের আসবাবপত্রসহ তাদেরকে নিরাপদে অন্যত্র সরাতে উপজেলা প্রশাসন থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হয়। তাছাড়া তাৎক্ষণিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে শুকনো খাবার দেয়া হয়। মসজিদ, কবরস্থান ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ঘরবাড়ি পুনরায় নির্মাণের জন্য টিনসহ অন্যান্য সহযোগিতা বরাদ্দের জন্য চাহিদা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তাছাড়া নদীর গতিপথ পরিবর্তনকারী চর অপসারণসহ ভাঙন রোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
