বাংলাদেশ থেকে লন্ডনে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্য ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত বৃটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। তিনি বলেছেন, অবৈধ অর্থ পাচার ও সম্পদ পুনরুদ্ধার এখন যুক্তরাজ্যের কাছে অগ্রাধিকার পাওয়া বিষয় এবং এ নিয়ে গত প্রায় ১৮ মাস থেকে দুই বছর ধরে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত কারিগরি ও আইনি পর্যায়ে আলোচনা চলছে। মঙ্গলবার ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস এসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সারাহ কুক একথা জানান।
তিনি বলেন, এই জব্দকরণই প্রমাণ করে যে, অবৈধ অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে এবং সম্পদ পুনরুদ্ধারে যুক্তরাজ্য কতোটা গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো মামলার বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি বৃটিশ হাইকমিশনার। কারণ হিসেবে আইনি প্রক্রিয়া ও প্রমাণের বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি। সারা কুক বলেন, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা একটি জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া।
এটি রাতারাতি সম্ভব নয়, কারণ সম্পদ শনাক্তকরণ, জব্দকরণ এবং ফেরত পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়ায় শক্তিশালী প্রমাণ এবং আদালতের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হয়। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে এবং দুই দেশ পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নিতে কাজ করছে। অবৈধ আর্থিক লেনদেন মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের অংশ হিসেবে আগামী জুনে যুক্তরাজ্য একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করবে বলেও জানান তিনি।
সেখানে বাংলাদেশকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী অংশ নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন সারাহ কুক। তিনি বলেন, অবৈধ অর্থ পাচার মোকাবিলা শুধু একটি দ্বিপক্ষীয় বিষয় নয়, এটি বৈশ্বিক আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অংশ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
ডিক্যাব সভাপতি এ কে এম মঈন উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘ডিক্যাব টক’ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইমরুল কায়েস।
