যুক্তরাষ্ট্রের আইন মন্ত্রণালয় (ডিওজে) নতুন এক বিতর্কে জড়িয়েছে। তারা জানিয়েছে যে, তারা এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব নথি প্রকাশ করেছে। তবে আইনপ্রণেতাদের কেউ কেউ বলেছেন, এই প্রকাশ যথেষ্ট নয়। শনিবার মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডি ও তার ডেপুটি টড ব্ল্যাঞ্চ দাবি করেন, ডিওজের কাছে থাকা সব নথিই প্রকাশ করা হয়েছে এবং এতে সংশ্লিষ্ট ফাইলগুলোতে উল্লেখ থাকা নামের একটি তালিকাও রয়েছে। কেন্টাকির রিপাবলিকান প্রতিনিধি থমাস ম্যাসি আইনটির সহ-রচয়িতা। তিনি ডিওজেকে আহ্বান জানান, তারা যেন অতীতের অভ্যন্তরীণ স্মারক (মেমো) প্রকাশ করে, যেখানে জেফ্রি এপস্টেইন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হবে কি না- সে বিষয়ে নেয়া সিদ্ধান্তগুলোর ব্যাখ্যা রয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
এ মাসের শুরুতে প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনকে ঘিরে লাখ লাখ নতুন নথি প্রকাশ করা হয়। চিঠিতে বন্ডি ও ব্ল্যাঞ্চ লিখেছেন, আইনের শর্ত অনুযায়ী এবং নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে এপস্টেইন ও ম্যাক্সওয়েলের মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভাগীয় জমা দেয়া নথি অনুসারে, বিভাগ তাদের হেফাজতে থাকা সব রেকর্ড, নথি, যোগাযোগ ও তদন্ত সংক্রান্ত উপকরণ প্রকাশ করেছে, যা নির্দিষ্ট নয়টি বিভাগের যে কোনো একটির সঙ্গে সম্পর্কিত। চিঠিতে আরও বলা হয়, লজ্জা, সুনামের ক্ষতি বা রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে কোনো নথি গোপন রাখা হয়নি।
তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে এমন লোকও আছেন, যারা বর্তমান বা সাবেক সরকারি কর্মকর্তা বা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং যাদের নাম অন্তত একবার ফাইলগুলোতে এসেছে। চিঠিতে বলা হয়, এই নামগুলো বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে এসেছে। কেউ কেউ এপস্টেইন বা ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে সরাসরি ইমেইল যোগাযোগে যুক্ত ছিলেন। আবার কারও কারও নাম শুধু নথি বা সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। তালিকায় ডনাল্ড ট্রাম্প, বিল গেটস, অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর এবং বিল ক্লিনটনের নাম রয়েছে। তাদের সবারই অতীতে এপস্টেইন বা ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল বলে নথিভুক্ত আছে। তবে তালিকায় নাম থাকা মানেই কোনো অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ নয়- এমন ইঙ্গিত নেই এবং প্রত্যেকেই এপস্টেইনের অপরাধে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
