পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দফার ভোটের আগে সোমবার নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হয়েছে। শেষ প্রচারণায় কলকাতার হাইভোল্টেজ ভবানীপুর কেন্দ্রে উত্তেজনা ছিল চরমে। তৃণমুল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বিজেপি ভবানীপুরে ভোটারদের টাকা দিচ্ছে। আনা হচ্ছে বহিরাগতদের। সোমবার প্রচারের শেষ লগ্নে ৫টি বিধানসভা ছুঁয়ে ভবানীপুরে এসে মহা মিছিল শেষ করেন। এই ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিজেপি’র শুভেন্দু অধিকারী।
পশ্চিমবঙ্গে শেষ দফার ভোটের শেষ প্রচারণায় সোমবার ব্যারাকপুরে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজ্যের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন এবং ৪ঠা মে ফলাফল ঘোষণার পর বিজেপি’র জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ৪ঠা মের পরে বিজেপি’র শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তাকে আসতেই হবে।
তবে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তন্ময় ঘোষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের প্রত্যাবর্তন নিয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, তারা অন্তত ২৩০ থেকে ২৫০টি আসন জিতবে। তিনি দাবি করেন, আগামী ৪ঠা মে বেলা ১১ টার পর পশ্চিমবঙ্গে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সহ কোনো বহিরাগতদের আর দেখা পাওয়া যাবে না।
ব্যারাকপুরের শিল্পাঞ্চলে ভাষণ দিতে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার জীবন ও আধ্যাত্মিক যাত্রায় বাংলা এক গভীর ভূমিকা পালন করেছে। মোদি বলেন, বাংলার প্রতি আমার যে অনুরাগ, তা শক্তির প্রতি এক ভক্তি। এটি আমার ব্যক্তিগত আধ্যাত্মিক যাত্রার শক্তিকেন্দ্র। বাংলার মহান ব্যক্তিত্ব এবং জনগণের, অর্থাৎ জনতা জনার্দনের অসীম ভালোবাসা এই যাত্রার অনুপ্রেরণা।
রাজ্যে চলমান নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যারাকপুরের এই সভাকে তার শেষ জনসভা আখ্যা দিয়ে তিনি নির্বাচনী ফলাফলের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে বলেন, পশ্চিমবঙ্গের যেখানেই আমি গিয়েছি, মানুষের মনোভাব দেখেছি। আমি এই আত্মবিশ্বাস নিয়ে ফিরছি যে, ৪ঠা মে ফলাফল ঘোষণার পর বিজেপি’র শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আমাকে আবার ফিরে আসতে হবে।
মোদি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, বিজেপি জমানায় কোনো ভারতীয় নাগরিক, যে ধর্মেরই হোন তিনি, তাদের সমস্যা হবে না। মতুয়া, নমশূদ্রদের বলছি, নাগরিকত্ব মিলবেই। সব কাগজ, অধিকার পাবেন, যা ভারতীয় নাগরিকেরা পান। এটা মোদির গ্যারান্টি। তিনি বলেন, সকলে মিলে বাংলাকে সব বন্ধন থেকে মুক্তি দেবো। হিংসা, তৃণমূলের দুর্নীতি, ভয়, সিন্ডিকেট, অনুপ্রবেশকারী, বেকারত্ব, পরিবারবাদ, তোষণের রাজনীতি থেকে মুক্তি দেব। পুরনো গৌরব ফিরে আসবে।
এই দফার ভোটের আগেই রাজ্যের নানা জায়গায় হামলার খবর পাওয়া গিয়েছে। হুগলীর গোঘাটে সোমবার তৃণমূল সাংসদের গাড়ির উপরে দুষ্কৃতকারীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ। সাংসদ মিতালী বাগ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এই ঘটনার রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। অন্যদিকে উত্তর ২৪ পরগণার জগদ্দলে রোববার রাতে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে অশান্তির ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন জগদ্দল পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর গোপাল রাউতও। পুলিশ সূত্রে খবর, জগদ্দল, ভাটপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কলকাতা হাইকোর্টে মগরাহাট পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গে নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত পুলিশ পর্যবেক্ষকের গোপন বৈঠকের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। রোববারই তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, যে পর্যবেক্ষক এই কাজ করেছেন, তাকে ‘টানতে টানতে আদালতে’ নিয়ে যাবেন। মাঝরাতে তৃণমূল কর্মীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশির নাম করে মহিলাদের সঙ্গে অশালীন ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে পুলিশ পর্যবেক্ষক এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। সোমবার এ নিয়ে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে শাসকদল।
নির্বাচন কমিশন ২৯শে এপ্রিল শেষ দফা নির্বাচনের জন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘোষণা করেছে। নির্বাচন কমিশন জনগণকে সতর্ক করেছে যে ভোটগ্রহণে হস্তক্ষেপ বা ভোটারদের ভোটদানে বাধা দেয়ার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্বাচনী এলাকা অনুযায়ী কর্মী মোতায়েন করতে এবং ভেতরের গলি ও স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে ‘এলাকা নিয়ন্ত্রণ’ অভিযান জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে।
