উখিয়ার কুতুপালং বাজারে দীর্ঘদিনের যানজট ও জনদুর্ভোগ নিরসনে পরিচালিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের পর এলাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে একইসঙ্গে উঠে এসেছে এই শৃঙ্খলা টিকিয়ে রাখার কঠিন বাস্তব চ্যালেঞ্জ।
সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে বাজারের রাস্তার দুইপাশ দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। অভিযানের ফলে দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনের পাশাপাশি পথচারীদের চলাচলেও স্বস্তি ফিরে আসে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আসমা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন সুলতানা।
উপস্থিত ছিলেন উখিয়া থানা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, স্কাউট সদস্য, বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি ও স্থানীয় জনগণ।
অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আসমা বলেন, শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালালেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন নিয়মিত মনিটরিং এবং সকলের দায়িত্বশীল ভূমিকা।
প্রতিটি বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটিকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে এবং দায়িত্ব পালনে কোনো শিথিলতা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও বলেন, হাইওয়ে পুলিশকে ফুটপাথ দখল বা অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠার আগেই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে পুনরায় দখল সৃষ্টি না হয়। পাশাপাশি সাংবাদিক ও সচেতন মহলের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সঠিক তথ্য দিয়ে প্রশাসনের পাশে থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে শাহপুরী হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম বলেন, কুতুপালং ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হাইওয়ে পুলিশ নিয়মিতভাবে কাজ করছে। রাস্তা বা ফুটপাথ দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ কিংবা যানজট সৃষ্টি করে এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি আরও জানান, আজকের উচ্ছেদ অভিযানের পর যেন পুনরায় দখল না হয় সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় জনগণ, বাজার কমিটি ও প্রশাসনের সমন্বিত সহযোগিতা ছাড়া এই শৃঙ্খলা দীর্ঘস্থায়ী করা সম্ভব নয়।
অভিযানে ফুটপাথ দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অপরাধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মোট ১১টি মামলায় ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এর মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আসমা ১০টি মামলায় ৫৩ হাজার টাকা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন সুলতানা ১টি মামলায় ২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।
