ময়মনসিংহের নান্দাইলে তিন বছর বয়সী কন্যাশিশুর সামনে এক নারী (২৮)কে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হয়েছে। রোববার দুপুরে ওই নারীর বাবা একজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনকে আসামি করে নান্দাইল থানায় মামলা দায়ের করেন। নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত শনিবার দুপুরে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। গুরুতর অসুস্থ মা ও আহত শিশুটিকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এর পাঁচদিন আগে নান্দাইল-তাড়াইল সড়কের শিমুলতলী এলাকায় ওই নারী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়। ওই নারী উপজেলার কান্দিউড়া গ্রামের ইন্দু মিয়ার বাড়ির পাশে মতি মিয়ার বাড়িতেই আশ্রয়ে ছিলেন। স্থানীয়দের কাছে জানতে পেরে নারীকে উদ্ধার করে নান্দাইল থানা পুলিশ।
গ্রামের সুজন মিয়া নামে এক ইজিবাইকচালক বলেন, গত সোমবার রাতে তিনি পাশেই নান্দাইল-তাড়াইল সড়কের শিমুলতলী বাজারে ইজিবাইক চালাচ্ছিলেন। ওই সময় গভীর রাতে শিশু কোলে এক নারীকে কাঁদতে দেখে কাছে গিয়ে জানতে পারেন ওই নারীকে চারজন মিলে পাশের একটি বিলের পাশে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে আবার অন্য দুইজন বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে। বিলের পাশে ধর্ষণের সময় কাছে থাকা শিশুটি চিৎকার করলে তাকে জোরপূর্বক টেনে নিতে চাইলে তিনি ঝাপটে ধরে রাখেন।
এ সময় ধর্ষণকারীরা শিশুকে ঘুষি মারে। এতে বাম চোখের নিচে ক্ষত হয়। নারীর এসব বর্ণনা শুনে সুজন মিয়া নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। পরে মতি মিয়ার স্ত্রী হবিনা বেগম ওই নারীকে সেবা দিয়ে খেতে ও থাকতে দেন। এর মধ্যে পাশের কান্দিউড়া গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে কাজল মিয়া নামে এক যুবক গভীর রাতে এসে ওই নারীকে নিজের আত্মীয় বলে নিয়ে যেতে চাইলে নির্যাতনের শিকার নারী কাজলকে চিনে না বলে জানালে সে কেটে পড়ে।
এর মধ্যে এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মো. বাসারত মিয়া ঘটনা ধামাচাপা দিতে তৎপর হয়ে ওঠেন। তিনি আশ্রয়দাতার বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেন কেন ওই নারীকে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। নির্যাতনের শিকার নারী বলেন, তিনি গত রোববার বিকালে ময়মনসিংহের একটি এলাকার বাবার বাড়ি সুনামগঞ্জ থেকে শ্বশুরবাড়ি ভালুকা যাওয়ার জন্য শিশুকন্যাকে সঙ্গে নিয়ে রওনা হন।
সন্ধ্যার পর তিনি পথ হারিয়ে ফেললে কয়েকজন লোক তাকে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে নান্দাইল চৌরাস্তা থেকে তাড়াইল সড়ক দিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরে সেখানেই একটি বিলের কাছে নিয়ে চারজন মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে অপেক্ষমাণ দুইজন পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে ফের ধর্ষণ করে।
নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম বলেন, নারীর পরিচয় জানার পর তার বাবাকে খবর দেয়া হয়। তিনি রোববার থানায় এসে মামলা দায়ের করেন। ভিক্টিম নারীকে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল।

শেখ আবদুল আলিম, কালীগঞ্জ,লালমনিরহাট।
২ মাস আগেঅপরাধীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমুলক বিচার দাবি জানাচ্ছি।