রায়পুরা পৌরসভার হাসিমপুর কলাবাড়িয়া এলাকার জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদ্রাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১০ বছরের ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম জুনায়েদ আহমদ। তিনি উপজেলার চান্দেকান্দি এলাকার মুছলেহ উদ্দিনের ছেলে এবং প্রতিষ্ঠানটির মুহতামিম। ঘটনা জানাজানি হলে আত্মগোপনে চলে যান তিনি। রোববার দুপুরে অভিযুক্ত শিক্ষক জুনায়েদের বিরুদ্ধে রায়পুরা থানায় অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দুই মাস পূর্বে রায়পুরা পৌর এলাকার কলাবাড়িয়ার জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদ্রাসায় ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী ও তার ছোট ভাইকে ভর্তি করানো হয়। সেখানে মাদ্রাসায় (আসাসিক) থেকে পড়াশোনা করছিল সে। থানার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, গত ২৪শে এপ্রিল দিবাগত রাত ২টায় ওই ছাত্রীর স্পর্শকাতর স্থানে আপত্তিকরভাবে হাত দেন মাদ্রাসার মুহতামিম জুনায়েদ আহমদ।
ঘটনার পর সকালে অসুস্থতাবোধ করলে ওই ছাত্রী তার খালার বাড়ির রায়পুরা পৌর শহরের মৌলভীবাজারের বাসায় চলে যায়। সেখানে তার অসুস্থতার কারণ জানতে চাইলে ঘটনার বিস্তারিত ওই ছাত্রী তার খালাকে জানাই। পরে বিষয়টি ছাত্রীর মা ও বাবাকে ফোনে জানান তিনি। অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই ছাত্রীর স্পর্শকাতর স্থানে নখের দাগের চিহ্ন রয়েছে। পরে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাথমিক চিকিৎসা করানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা জানাজানি হলে তা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের মাধ্যমে গ্রাম্য সালিশ বসিয়ে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে স্থানীদের আপত্তির মুখে বন্ধ হয়ে যায় সালিশ। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা মাদ্রাসার একটি সাটার ভাঙচুর এবং এ ঘটনার বিচার দাবি করেন। খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঘটনার পর মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা বাবুল ভূঁইয়া, অভিযুক্ত শিক্ষক জুনায়েদ দু’জনই এখন আত্মগোপনে আছেন। তাদের ব্যবহৃত মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবর রহমান জানান, ছাত্রী ধর্ষণচেষ্টা ঘটনায় বসা সালিশে ঝামেলা হচ্ছে খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী পরিবারকে থানায় অভিযোগ দিতে বলা হয়। ভুক্তভোগীর মা থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষককে ধরতে অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।
