বাংলাদেশি রাজনীতির ইতিহাসে ২০০৭ সালের ১১শে জানুয়ারি একটি কালো অধ্যায় হয়ে আছে। তথাকথিত ‘তত্ত্বাবধায়ক’ সরকারের আবরণে সেদিন গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল। সেই উত্তাল ও অন্ধকার সময়ে সবচেয়ে বড় আঘাতটি এসেছিল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া পরিবারের ওপর। বিশেষ করে বিএনপির ভবিষ্যৎ কান্ডারি ও তৎকালীন প্রভাবশালী নেতা তারেক রহমানের ওপর। ৭ই মার্চ মইনুল রোডের বাসভবন থেকে গ্রেপ্তারের পর তার ওপর যে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়, তা কেবল রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, বরং একটি আদর্শকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়ার অপচেষ্টা ছিল।
১/১১-এর সেই অন্ধ কুঠুরি ও নিষ্ঠুরতা
গ্রেপ্তারের পর রিমাণ্ডের নামে তারেক রহমানের ওপর চালানো হয়েছিল মধ্যযুগীয় বর্বরতা। আদালতে পেশ করা মেডিকেল রিপোর্ট আজও সাক্ষী দেয় সেই নিষ্ঠুরতার। তার মেরুদণ্ডের ৬ ও ৭ নম্বর হাড় ভেঙে ফেলা হয়েছিল। একজন রাজনীতিবিদের প্রতি রাষ্ট্রের এই নির্দয় আচরণ বিশ্ববিবেককে স্তম্ভিত করেছিল।
আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ব্যথায় নীল হয়ে যাওয়া সেই তরুণ নেতা বলেছিলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদের নামে আমার চোখ বেঁধে অন্ধকার স্থানে নিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৮ ঘণ্টা নির্যাতন করা হয়েছে। আমি একজন রাজনীতিবিদ, কোনও সন্ত্রাসী নই। এবার যদি রিমাণ্ডে নেয়া হয়, আমি বাঁচব না।’
তাকে ক্রসফায়ারের হুমকি দেয়া হয়েছিল, কেড়ে নিতে চাওয়া হয়েছিল তার প্রাণ। প্রায় বিকলাঙ্গ ও অর্ধমৃত অবস্থায় তিনি লড়াই করেছিলেন মৃত্যুর সঙ্গে। আজ তিনি সুস্থ হয়ে স্বদেশে ফিরে এসেছেন লাখো জনতার ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে। গত ২৫শে ডিসেম্বর ছিল তার রাজসিক ও ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন। গত ১২ই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশ নিয়ে ভূমিধস বিজয় লাভ করেছেন। এ যেন এলেন, দেখলেন এবং জয় করলেন। এ বিজয় কোটি মানুষের দোয়া, সমর্থন ও পরম করুণাময়ের এক বিশেষ নেয়ামত।
সংগ্রামের ৩৬ বছর: তৃণমূল থেকে পরিণত নেতৃত্ব
তারেক রহমান কেবল উত্তরাধিকার সূত্রে আসা কোনও নেতা নন। সুদীর্ঘ ৩৬ বছরের রাজনৈতিক পরিক্রমায় তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছেন তৃণমূল থেকে। গ্রামগঞ্জের ধূলিকণা মেখে সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা কাছ থেকে দেখেছেন বলেই তিনি আজ ‘দেশনায়ক’। দীর্ঘ প্রবাস জীবনে যে মানসিক ও শারীরিক ট্রমা তিনি বয়ে বেড়িয়েছেন, তা তাকে আরও বেশি সহনশীল এবং দূরদর্শী করে তুলেছে।
একজন ভুক্তভোগীই জানেন নির্যাতনের যন্ত্রণা কতটা তীব্র হতে পারে। তাই আশা করা যায়, আগামীর বাংলাদেশে তার নেতৃত্বে জুলুমের অবসান ঘটবে। রাষ্ট্রযন্ত্র আর কোনও নাগরিকের ওপর অন্যায়ের খড়গ চালাবে না। ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে তিনি হবেন এক অতন্দ্র প্রহরী। মব জাস্টিস বা গুপ্ত বাহিনীর দৌরাত্ম্য বন্ধ করে একটি সুশৃঙ্খল রাষ্ট্র গঠিত হবে।
শেষ কথা
দীর্ঘ নির্বাসন কাটিয়ে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কেবল একজন ব্যক্তির ফেরা নয়, বরং এটি গণতন্ত্রের পুনর্জন্মের সংকেত। বাংলাদেশের মানুষ আজ তার দিকে তাকিয়ে আছে- শ্রদ্ধায় এবং প্রত্যাশায়। যে নেতা নিজের হাড় ভাঙার ব্যথা সয়ে দেশপ্রেমকে বিসর্জন দেননি, তিনিই পারবেন একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে।
সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তার নিকট আকুল ফরিয়াদ, তার হাত ধরেই বাংলাদেশ পাক প্রকৃত মুক্তির স্বাদ। আমিন।
হড়ড়ৎ.নড়বংষ@মসধরষ.পড়স ১৪.০২.২০২৬
আগামীর বাংলাদেশ ও তারেক রহমান: নির্যাতিত মজলুম থেকে রাষ্ট্রনায়ক
নূর আহমেদ
মত-মতান্তর
৬ মাস আগে
১৫ ফেব্রুয়ারি (রবিবার), ২০২৬, ৯ঃ২৩ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
