জীবনের ঝুঁকিতে থাকেন প্রায় সবদেশের সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানগণই। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি। তার জীবন যেমন বিচিত্র এবং রহস্যঘেরা, তেমনি অত্যন্ত ঝঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক। আততায়ীর অদৃশ্য ছায়া তাকে অনুসরণ করে প্রতিনিয়ত। আমেরিকার বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এছাড়া আড়াই শতাব্দীর ইতিহাসে দেশটি শাসন করেন ৪৬ জন প্রেসিডেন্ট। যাদের অনেকেই ছিলেন যশ-খ্যাতি ও জনপ্রিয়তার শীর্ষে। আবার অনেক প্রেসিডেন্ট শিকার হন জনরোষের। আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, যুদ্ধ-বিগ্রহ ও বর্ণ বৈষম্যের কারণে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধও মোকাবিলা করতে হয়েছে কয়েকজন প্রেসিডেন্টকে। আলোচনা-সমালোচনা, সুনাম-দুর্নাম সবকিছুর সম্মিলনেই প্রবাহিত হয়েছে প্রেসিডেন্টদের জীবনধারা। নিরাপত্তার কারণে তাদের স্বাভাবিক জীবন চলার পরিধি সীমিত। তারপরও প্রায়শই অনেক বড় হয়ে দেখা দেয় তাদের জীবনের ঝুঁকি। যুক্তরাষ্ট্রে আততায়ীর হাতে প্রাণ হারাতে হয় চারজন প্রেসিডেন্টকে। বিভিন্ন সময় হত্যাচেষ্টায় আহত হন বেশ ক’জন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর হামলা
সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নিরাপত্তা জনিত কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে পুনরায় আলোচনায় এসেছে তার জীবনের ঝুঁকিপূর্ণ দিক এবং সিক্রেট সার্ভিসের কঠোর নিরাপত্তা তৎপরতা। ট্রাম্পের ওপর হামলা হয়েছে বেশ কয়েকবার। তবে প্রতিবারই বেঁচে গিয়েছেন তিনি। আমেরিকার রাজধানীতে ওয়াশিংটন হিল্টন হোটেলে গত ২৫ এপ্রিল রাতে হোয়াইট হাউসের সাংবাদিকদের সঙ্গে নৈশভোজ ছিল প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের। এ সময় এক বন্দুকধারী হোটেলটিতে ঢুকে গুলি ছোড়ে। ঘটনার পর প্রেসিডেন্টকে ঘিরে ফেলে তার নিরাপত্তা বাহিনী। দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয় ফার্স্ট লেডি মেলেনিয়া ও প্রেসিডেন্টকে। বন্দুকধারী জোর করে চেকপয়েন্ট পার হওয়ার চেষ্টা করে। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে হামলা করতে চেয়েছিলেন কোল টমাস অ্যালেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক করেছে অ্যালেনকে। তার কাছ থেকে পাওয়া গেছে একটি শটগান, হ্যান্ডগান এবং একাধিক ছুরি।
ট্রাম্পের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে আসছে ২০১৬ সাল থেকেই। সেবছর লাস ভেগাসে এক ব্রিটিশ নাগরিক ট্রাম্পের সমাবেশে পুলিশ কর্মকর্তার বন্দুক ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে নির্বাচনি প্রচারের সময় হত্যাচেষ্টার মুখে পড়েছিলেন ট্রাম্প। পেনসিলভেনিয়ার বাটলারে নির্বাচনি সমাবেশে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এক আততায়ী। ট্রাম্পের কান ছুঁয়ে বেরিয়ে যায় সেই গুলি। রক্তাক্ত হন তিনি। একই বছর ফ্লোরিডার ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল গলফ ক্লাবে রাইফেলসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে সিক্রেট সার্ভিস। নর্থ ডাকোটায় ২০১৭ সালে ট্রাম্পের গাড়িবহরে হামলার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয় এক আততায়ী। এছাড়া এক ফরাসি-কানাডীয় দ্বৈত নাগরিক ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে, মারাত্মক রাইসিন বিষযুক্ত একটি চিঠি পাঠান ট্রাম্পকে।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর হওয়া হত্যাচেষ্টা এবং হুমকি বৃদ্ধির কারণে সিক্রেট সার্ভিস চতুর ছদ্মবেশের পরিকল্পনা করে। তুরস্কে গত জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের সম্ভাব্য হত্যাচষ্টা তথ্যে আতঙ্কিত গোয়েন্দা সংস্থার সতর্কতা বেড়ে যায় নাটকীয়ভাবে। আঙ্কারাজুড়ে মোতায়েন করা হয় হাজার হাজার তুর্কি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী। সম্মেলন শেষে অত্যন্ত গোপনে ট্রাম্পকে ফিরিয়ে নেওয়া হয় যুক্তরাষ্ট্রে। তার ওপর ইরানের ক্রমাগত হুমকি ছিল নিরাপত্তার জন্য অস্বস্তিকর। প্রেসিডেন্টকে কীভাবে নিরাপদে তুরস্ক থেকে বের করে নেওয়া যায়, তা নিয়ে গোয়েন্দারা ছিল দিনভর ব্যস্ত। ট্রাম্পের ফিরতি মোটর শোভাযাত্রাটি রওনা হয় আঙ্কারা বিমানবন্দরের উদ্দেশে। সেখানে অপেক্ষমান ছিল প্রেসিডেন্টকে বহনকারী বিমান এয়ারফোর্স ওয়ান।
হুমকি বৃদ্ধির কারণে সিক্রেট সার্ভিস চতুর ছদ্মবেশের পরিকল্পনা করে।এজন্য ট্রাম্পকে প্রথমে চড়তে হয় এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানে। পরে তাকে বের করে নেওয়া হয় অন্য পাশের একটি বিকল্প বহির্গমন পথ দিয়ে। যেখানে একটি ক্যাটারিং ট্রাক অপেক্ষা করছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও গোয়েন্দাদের কয়েকজন এজেন্ট ওঠেন সেই ট্রাকের ভেতরে। ট্রাকটি থেকে ট্রাম্পকে তুলে দেয়া ছোট একটি সি-৩২এ বিমানে। এই বিমানে চড়ে তিনি রওনা হন যুক্তরাজ্যের মিল্ডেনহল বিমানঘাঁটির উদ্দেশে। অগ্রবর্তী দলের অন্য স্টাফরাও এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানেই অবস্থান করছিলেন। তাঁদের অনেকেই জানতেন না, ট্রাম্প আসলে এই বিমানের যাত্রীই নন। ট্রাম্প পরে যুক্তরাজ্য থেকে এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানে চড়ে নাটকীয়ভাবে ফিরে যান ওয়াশিংটন ডিসিতে। প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার জন্য প্রায় সময়ই নেওয়া হয়ে থাকে এমন মেকি বা বিকল্প ব্যবস্থা। ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রেসিডেন্ট যখন কোনো হেলিকপ্টারে ওঠেন, তখন একই রকম তিনটি হেলিকপ্টার আকাশে ওড়ে। যাতে সুনির্দিষ্টভাবে কাউকে চিহ্নিত করা না যায়।
প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা
বিশ্বের সবচেয়ে সুরক্ষিত ব্যক্তিদের একজন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। যার নিরাপত্তায় মূল দায়িত্ব পালন করে ইউনাইটেড স্টেটস সিক্রেট সার্ভিস। এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিচ্ছিদ্র, অত্যাধুনিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর। প্রতিটি মুহূর্তের সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে তারা গ্রহণ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তারা ২৪ ঘণ্টা থাকে প্রেসিডেন্টের সাথে। নিশ্চিত করে তার পরিবার, অফিস, ক্যাম্প ডেভিড ও হোয়াইট হাউসের কড়া নিরাপত্তা। গাড়িতে বা উড়োজাহাজে যাতায়াতকালে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা থাকে কয়েক স্তরে। কোনো বিপদ হলে প্রেসিডেন্টকে সাথে সাথে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয় সিক্রেট সার্ভিসের বিশেষ ক্যাট টিম। এজন্য তিনি যেখানেই যান আগে থেকেই সেখানে নির্ধারিত থাকে একটি সুরক্ষিত গোপন কক্ষ। এছাড়া ১৯৬৫ সালের আইন অনুযায়ী আজীবন সিক্রেট সার্ভিসের সুরক্ষা পেয়ে থাকেন একজন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট এবং তার পরিবার।
প্রেসিডেন্ট- যারা হত্যা ও হামলার শিকার
আমেরিকার চারজন প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন সময়ে শিকার হয়েছেন হত্যার। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম গুপ্তহত্যার শিকার হওয়া প্রেসিডেন্ট ছিলেন আব্রাহম লিঙ্কন। ১৮৬৫ সালে ওয়াশিংটন ডিসির ফোর্ডস থিয়েটারে মাথার পেছন থেকে গুলি করা হয় তাকে। প্রেসিডেন্ট জেমস গারফিল্ড ১৮৮১ সালে ওয়াশিংটন ডিসির একটি ট্রেন স্টেশনে গুলিবিদ্ধ হন আততায়ীর হাতে। আঘাতের একমাস পর নিউজার্সিতে মারা যান গারফিল্ড।
নিউইয়র্কের বাফেলোতে ১৯০১ সালের সেপ্টেম্বরে আততায়ীর হাতে নিহত হন প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম ম্যাককিনলে। লিওন সিজলগোস নামের এক নৈরাজ্যবাদী হত্যা করেন তাকে। প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনডি ডালাসে নিহত হন ১৯৬৩ সালের নভেম্বরে। স্নাইপারের গুলিতে লি হার্ভে অসওয়াল্ড নামের এক ব্যক্তি হত্যা করেন কেনেডিকে।
অপরদিকে ১৯৮১ সালে রোনাল্ড রেগান, জেরাল্ড ফোর্ড ১৯৭৫ সালে এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় হত্যাচেষ্টা থেকে বেঁচে ফিরেন। এছাড়া হামলা হয়েছে থিওডোর রুজভেল্ট, ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট, জর্জ ডব্লিউ বুশ ও বারাক ওবামার ওপর। বিশ্ব ইতিহাস এবং তথ্যানুসারে ১৮৭৫ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও স্পেন এবং ডোমেনিকান রিপাবলিক শীর্ষে রয়েছে সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান নিহতের তালিকায়। যাতে দেশ তিনটিতে এই সময় সর্বোচ্চ পর্যায়ের তিনজন করে নেতা নিহত হন।
হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্টদের 'বন্দি' জীবন
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নিরাপত্তা জনিত কারণে হোয়াইট হাউসে অনেকটাই 'বন্দি' জীবন যাপন করেন, চরম সীমাবদ্ধতার মধ্যে। স্থায়ীভাবে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী সবসময় কড়া নজরদারিতে রাখে তাকে। রাজনৈতিক বিভাজন এবং চরমপন্থার কারণে তবুও সবসময়ই ঝুঁকি থাকে তার জীবনের। ফলে কঠোর নিয়ম মেনে চলতে হয় তাকে। অনেক কিছু করতে পারেন না প্রেসিডেন্ট। দায়িত্বে থাকাকালীন গাড়ি চালানোর সুযোগ নেই প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্টের। অবসরের পরও অনেক ক্ষেত্রে গাড়ি চালাতে পারেন না খোলা রাস্তায়। লিন্ডন বি. জনসন ছিলেন শেষ প্রেসিডেন্ট যিনি নিজেই গাড়ি চালিয়েছেন। তবে প্রেসিডেন্ট সাইকেল চালানো বা হাঁটার সুযোগ পান ক্যাম্প ডেভিডের মতো সুরক্ষিত এলাকায়। প্রেসিডেন্ট নিরাপত্তার জন্য ব্যবহার করতে পারেন না বাজার থেকে কেনা সাধারণ ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা স্মার্টফোন। বারাক ওবামা অনেক লড়াই করেছিলেন তার প্রিয় ব্ল্যাকবেরি ব্যবহারের জন্য। পরে বিশেষভাবে সুরক্ষিত করে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয় তাকে। প্রেসিডেন্ট চাইলেই তার সন্তানদের স্কুল বা অনুষ্ঠানে যোগদান করতে পারেন না। অনেক প্রেসিডেন্টের সন্তান এ কারণেই পড়াশোনা করেছে হায়াইট হাউসের ভেতরেই ।
প্রেসিডেন্ট তার ব্যক্তিগত সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে কাউকে ব্লক করতে পারেন না। বাইরের আক্রমণ ঠেকাতে হোয়াইট হাউসের জানালা সিল করা থাকে সবসময়। প্রেসিডেন্ট চাইলেই খুলতে পারেন না হোয়াইট হাউস বা তার গাড়ির জানালা। প্রেসিডেন্টর জন্য ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এর মতো বিলাসবহুল বিমানের ব্যবস্থা থাকে। এর বাইরে তার কোনো সুযোগ নেই সাধারণ মানুষের মতো লাইনে দাঁড়িয়ে বিমানে ওঠার। ‘প্রেসিডেন্সিয়াল রেকর্ডস অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, তার প্রতিটি ইমেইল এবং দাপ্তরিক কাগজ সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক। প্রেসিডেন্ট চাইলে তার নিজের অফিস পরিষ্কার করতে পারেন না। প্রেসিডেন্ট কখনোই অস্বীকার করতে পারেন না সিক্রেট সার্ভিসের সুরক্ষা নিতে।
প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ও যোগ্যতা
সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে অবশ্যই জন্মসূত্রে আমেরিকার নাগরিক এবং প্রমাণ থাকতে হবে কমপক্ষে ১৪ বছর আমেরিকায় বসবাসের। বয়স হতে হবে কমপক্ষে ৩৫ বছর। প্রেসিডেন্ট চার বছরের জন্য নির্বাচিত হয়ে থাকেন ইলেক্টোরাল কলেজ পদ্ধতিতে। সরকারের প্রধান নির্বাহী হলেন প্রেসিডেন্ট। দেশের প্রধান ডিপ্লোম্যাট এবং পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারক, বৈদেশিক চুক্তির মধ্যস্থতাকারীও তিনি। প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমোদন সাপেক্ষে বিদেশে রাষ্ট্রদূত নিয়োগের অধিকারী এবং আর্মী, নেভী, এয়ারফোর্স ও মেরীনের প্রধান-কমান্ডার ইন চীফ। প্রেসিডেন্টের বার্ষিক বেতন ৪ লক্ষ ডলার ও অতিরিক্ত ভাতা ৬০ হাজার ডলার। এছাড়া ভ্রমণ ও আপায়্যান ভাতা ১ লক্ষ ডলার পেয়ে থাকেন।
হোয়াইট হাউস হচ্ছে প্রেসিডেন্টের সরকারী বাসভবন। ওয়াশিংটন ডিসি’র পটোম্যাক নদীর ১০ বর্গ মাইলের মধ্যে অবস্থিত এই ভবনে ১৮০০ সালে আমেরিকার দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট জন অ্যাডমস এবং তার স্ত্রী অ্যাবিগেল অ্যাডমস প্রথম বসবাস শুরু করেন।
হোয়াইট হাউজের পশ্চিমাংশে ডিম্বাকৃতির কক্ষটি হচ্ছে ওভাল অফিস। ১৯০৯ সালে প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম হাওয়ার্ডের সময় থেকে ওভাল অফিস প্রেসিডেন্টের প্রধান সরকারী দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রায় শতাধিক বিভাগে সামরিক ও বেসামরিক মিলে প্রায় ৩০ লক্ষ কর্মকর্তা প্রেসিডেন্টের অধীনে কর্মরত। আমেরিকার ২৪৯ বছরের ইতিহাসে ৬০টি নির্বাচনে ৪৭ জন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন এবং শেষ প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এদের মধ্যে ২০ জন প্রেসিডেন্ট পুনঃনির্বাচিত হন। ডেমোক্রেটিক পার্টি ১৮২৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর এ পর্যন্ত ১৫ জন প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্র শাসন করেন। দেশটির ৭ম প্রেসিডেন্ট এন্ড্রু জ্যাকসন ছিলেন প্রথম এবং ৪৪তম প্রেসিডেন্ট ছিলেন বারাক ওবামা। রিপাবলিকান পার্টির প্রতিষ্ঠাকাল ১৮৫৪ সাল। দলটির মোট ১৯ জন প্রেসিডেন্টের নিয়ন্ত্রণে ছিলো হোয়াইট হাউজ। যুক্তরাষ্ট্রের ১৬তম প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন ১৮৬১ সালে রিপাবলিকারন পার্টি থেকে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হন। দলটির ১৯তম প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সম্পাদক, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ, নিউইয়র্ক
