প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও রাষ্ট্রতত্ত্বের ধারণার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়

প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও রাষ্ট্রতত্ত্বের ধারণার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়

ফন্ট সাইজ:

রাষ্ট্রবিজ্ঞানে প্রধানত: দুটি সরকার ব্যবস্থার ধারণা পাওয়া যায়: রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার পদ্ধতি এবং সংসদীয় সরকার পদ্ধতি। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতি সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হোন। এ পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতি হোন এক্সিকিউটিভ প্রেসিডেন্ট। তাঁর হাতে থাকে রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা। তিনি মূলত: রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধান দুটিই। তিনি হোন রাষ্ট্রের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি, তার এক্সিকিউটিভ অর্ডারই আইন। এ পদ্ধতির উদাহরণ হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের Article II স্পষ্ট করে বলেছে “The executive power shall be vested in a President of the United States of America” (অর্থাৎ “যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা একজন রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত থাকবে”)। অতীতে বাংলাদেশেও রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার পদ্ধতি ছিল। সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার পদ্ধতি পরিবর্তন করে সংসদীয় পদ্ধতি প্রচলন করা হয় নব্বই দশকের গোড়ার দিকে।

অপরদিকে, সংসদীয় পদ্ধতিতে প্রধানমন্ত্রী হলেন এক্সিকিউটিভ হেড অব দ্য গভর্নমেন্ট। প্রধানমন্ত্রী ও তার দল সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে সরকার গঠন করেন। নির্বাহী ক্ষমতা এ পদ্ধতিতে থাকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে। সংসদীয় পদ্ধতিতে রাষ্ট্রের অলংকারিক প্রধান একজন ব্যক্তি থাকেন। ঐ ব্যক্তির পদ ও পদবি কি তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট দেশের রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রকৃতি ও চরিত্রের (Nature and Character) উপর। রাজতন্ত্র হলে রাজা বা রানী হোন রাষ্ট্রের প্রধান - যেমন গ্রেট ব্রিটেনের রাজা, অতীতে ছিলেন রানী। অন্যদিকে রাষ্ট্রের প্রকৃতি ও চরিত্র রিপাবলিক হলে রাষ্ট্রপতি হোন সে রাষ্ট্রের প্রধান, যেমন ভারত, বাংলাদেশ। সংসদীয় পদ্ধতিতে রাজা, রানী বা রাষ্ট্রপতি যেই হোন রাষ্ট্রের প্রধান তার ক্ষমতা থাকে সীমিত। তিনি বরং রাষ্ট্রের অলংকারিক প্রধান (Ceremonial Head)। ইতালির প্রসিডেন্ট Sergio Mattarella - এর ভাষায় “The President is a referee, not a player. His job is to ensure that the rules of the game are respected by everyone” (অর্থাৎ “রাষ্ট্রপতি হলেন একজন রেফারি, খেলোয়াড় নন। তাঁর কাজ হলো এটা নিশ্চিত করা যে, খেলার নিয়মকানুন যেন সবাই মেনে চলে”)।

বাংলাদেশের সংবিধানের অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান - হেড অব দ্য স্টেট। তিনি জাতীয় সংসদ কর্তৃক নির্বাচিত হোন [অনুচ্ছেদ ৪৮(১) ও ১২৩]। তিনি রাষ্ট্রের অন্য সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে [অনুচ্চেদ ৪৮(২)। তাঁকে ঘিরেই রাষ্ট্রের সবকিছু পরিচালিত হয়। কিন্তু তাঁর নির্বাহী ক্ষমতা নেই। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৫(৪) অনুযায়ী রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির নামে পরিচালিত হলেও, অনুচ্ছেদ ৪৮(৩) অনুসারে কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া আর সব কাজই তিনি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী করেন। ফলে অনেকেই মনে করেন রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত। কিন্তু বাস্তবে রাষ্ট্রপতির পদ কেবল আনুষ্ঠানিক নয় বা যেভাবে বলা হয় “একেবারে ক্ষমতাহীন” তা নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের মর্যাদা রক্ষা, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং জাতীয় ঐক্য অটুট রাখার প্রধান প্রতীক।
সংসদীয় গণতন্ত্রের সুতিকাগার বৃটেনে রাজতন্ত্র বিদ্যমান থাকায় রাষ্ট্রের প্রধান হলেন রাজা। অতীতে অর্ধ শতাব্দীর বেশি সময় ধরে ছিলেন রানী। রাজা বা রানী যেই রাষ্ট্রপ্রধান থাকুন না কেন তার নির্বাহী কোনো ক্ষমতা নেই। তবে রাষ্ট্রের সবকিছু চলে Her Majesty the King বা Queen (যেই সিংহাসনে অধিষ্ঠিত থাকেন) - এর নামে। কিন্তু তিনি দৈনন্দিন সরকার পরিচালনায় মোটেই মাথা ঘামান না বা কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করেন না। সরকার পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভা। রাজা থাকেন সব রাজনৈতিক সমালোচনা, বিতর্ক ও মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে। তবে রাজা সব ধরনের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত নেন ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে। এমনকি বৃটিশ পার্লামেন্টে রাজা যে বক্তব্য প্রদান করেন তাতে দায়িত্ব পালনরত সরকারের নীতি প্রতিফলিত হয়। আরো স্পষ্ট করে বললে ঐ বক্তব্য প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা অনুমোদন করে, লিখে দেয়। তবে সম্মান, মর্যাদা ও রাষ্ট্রাচারে রাজা থাকেন রাষ্ট্রের সবার ঊর্ধ্বে। রাষ্ট্রের ক্রান্তিলগ্নে অন্তর্নিহিত কর্তৃত্ব প্রয়োগ করে রাজা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও দায়িত্ব পালন করেন। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ও রাজার ব্যাপারে বৃটিশ ইতিহাসবিদ Sir John Wheeler-Bennett বলেন “In our system, the Prime Minister has the power, but the King has the authority. Power is temporary and political; authority is permanent and national" (অর্থাৎ “আমাদের ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর হাতে রয়েছে ক্ষমতা, কিন্তু রাজার হাতে রয়েছে কর্তৃত্ব। ক্ষমতা হলো সাময়িক ও রাজনৈতিক; আর কর্তৃত্ব হলো স্থায়ী ও জাতীয়”)।

বাংলাদেশের বিদ্যমান সংসদীয় পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতির পদ ক্ষমতার নয়, বরং প্রচণ্ড মর্যাদার, বিরল সম্মানের ও সর্বোচ্চ দায়িত্ববোধের। তাঁর নামে, তাঁর সম্মতিতে বা নিদেনপক্ষে তাঁর অনুমোদনে রাষ্ট্রের সবকিছু হয়। রাষ্ট্রপতির কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব হলো:
১। প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করা (সংবিধান অনুযায়ী যিনি সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থা অর্জনে সক্ষম);
২। বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করা;
৩। নির্বাচন কমিশন নিয়োগ দেয়া;
৪। সরকারি কর্ম কমিশন নিয়োগ দেয়া;
৫। সব বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা;
৬। জাতীয় সংসদ আহ্বান, মুলতবি এবং সংবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনে ভেঙে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করা;
৭। জাতীয় সংসদে পাস হওয়া বিলে সম্মতি প্রদান করা;
৮। সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ক্ষমা, দণ্ড লাঘব বা স্থগিত করার ক্ষমতা প্রয়োগ করা;
৯। সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা;
১০। বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের পরিচয়পত্র গ্রহণ এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নিয়োগে আনুষ্ঠানিক ভূমিকা পালন করা;
১১। বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেয়া।
রাষ্ট্রপতির প্রতিটি সিদ্ধান্ত এককভাবে নেওয়া হয় না, সংবিধান অনুযায়ী তা সম্ভব নয়। কিন্তু প্রতিটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার কেন্দ্রে “রাষ্ট্রপতি” নামক এই প্রতিষ্ঠানটি রয়েছে। সাংবিধানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ রাষ্ট্রপতি এককভাবে করতে পারেন কারো সহিত পরামর্শ ছাড়া। প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ অনেকটা সোজা-সাপ্টা (straightforward) হলেও প্রধান বিচারপতি ক্ষেত্রে ততটা নয়। কেননা জাতীয় নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া দলের নেতা বা দলসমূহ বা জোটের প্রধানকে তিনি প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিবেন। এটা অনেকটা সহজ। কিন্তু সংবিধান অনুযায়ী এককভাবে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের দৃষ্টান্ত নব্বই দশকে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি চালু হওয়ার পর অতীতের রাষ্ট্রপতিরা দেখাতে পারেননি। বরং প্রধান বিচারপতি নিয়োগে অতীতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বা আইন মন্ত্রণালয়ের প্রচ্ছন্ন চাপ ও কলকাটি নাড়া দৃশ্যমান ছিল, গণমাধ্যমে এসেছেও।
সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত বলে প্রায় সময় অনেকে বলে থাকেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা মধ্যে ভারসাম্য আনতে। এ নিয়ে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় গঠিত হওয়া জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে দীর্ঘ আলোচনাও হয়েছে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনার ধারণা গলদপূর্ণ। এটা রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও রাষ্ট্রতত্ত্বের ধারণার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা মধ্যে ভারসাম্য আনতে গেলে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব (Conflict of Power) অনিবার্য হয়ে উঠবে যা রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করবে। ইতালীয় রাষ্ট্রবিজ্ঞানী Giovanni Sartori - এর মতে “Semi-presidentialism is a structure of shared power. If the two executives—the president and the prime minister—do not pull in the same direction, the machinery jams, or the president absorbs the prime minister, or vice versa” (অর্থাৎ “আধা-রাষ্ট্রপতির শাসিত ব্যবস্থা হলো ক্ষমতা ভাগাভাগির একটি কাঠামো। যদি দুই নির্বাহী প্রধান—অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী—একই অভিমুখে কাজ না করেন, তবে শাসনব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে; অথবা রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন, কিংবা এর উল্টোটি ঘটে”)।

সংসদীয় পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপ্রধানকে ক্ষমতা দিয়ে বিচার বা মূল্যায়ন করা হয় না। বরং বিচার বা মূল্যায়ন করা করা রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ববোধের দৃষ্টান্ত, ব্যক্তিত্ব, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদের মর্যাদা রক্ষায় সচেষ্টতা, ক্রান্তিকালে জাতির প্রতি দায়বদ্ধতা ইত্যাদি থেকে। তর্ক-বিতর্ক, সমালোচনা ও নিন্দা হবে সরকারের বিরুদ্ধে কেননা সরকার দেশ পরিচালনা করছে। তারাই জনগণের ভোটে সরাসরি নির্বাচিত এবং তাদেরকে জনগণের নিকট জবাবদিহি করতে হবে। যেমনটি করা হয় বৃটেনে। তর্ক-বিতর্ক, সমালোচনা ও নিন্দা কোনোভাবেই রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে নয়, কেননা রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রতিক, অভিভাবক এবং সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষাকারী। যেমনটা বৃটেনে তর্ক-বিতর্ক, সমালোচনা ও নিন্দা কোনোভাবেই রাজা বা রানীকে ঘিরে হয় না। একটা প্রতিষ্ঠানকে বৃটিশ জাতি সব সমালোচনা ও তর্ক-বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখে। প্রাক্তন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী Winston Churchill -এর ভাষায় “The monarch is a clean sheet of paper on which the government of the day writes its policies. The crown belongs to no party; it belongs to the nation” ( অর্থাৎ “রাজা বা রানী হলেন একটি পরিষ্কার কাগজের মতো, যার ওপর চলমান সরকার তার নীতিমালা রচনা করে। রাজমুকুট কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়; এটি সমগ্র জাতির”)।

যতই অনাড়ম্বর ও অলংকারিক হোন না কেন বা নির্বাহী ক্ষমতাহীন মনে করা হোক না কেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে একটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে দেখেই অনেক সময় বোঝা যায় সেই রাষ্ট্র তার সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কতটা গুরুত্ব দেয়। যদি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে এমন একজন ব্যক্তি থাকেন যিনি নৈতিকভাবে দৃঢ়, সজ্জন ব্যক্তিত্ব এবং সংবিধানের মর্যাদা রক্ষায় আপসহীন, তাহলে পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পায়। একই সাথে বহির্বিশ্বে দেশের মান ও সম্মান বৃদ্ধি পায়।

রাষ্ট্রপতির পদ ও প্রতিষ্ঠানকে যত বেশি স্বাধীন, মর্যাদাপূর্ণ, ও সর্বজনগ্রাহ্য করা হবে এবং বিতর্ক ও সমালোচনার বাইরে রাখা যাবে, ততই শক্তিশালী হবে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং গণতান্ত্রিক ভিত্তি। আয়ারল্যান্ডের সাবেক প্রসিডেন্ট Michael D. Higgins এর মতে “The head of state must be a neutral arbiter, rising above the political battlefield to ensure the stability of our democratic institutions” (অর্থাৎ “আমাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রপ্রধানকে অবশ্যই রাজনৈতিক সংঘাতের ঊর্ধ্বে থেকে এক নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে হবে”)।

বর্ষীয়ান ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মহোদয়ের সঙ্গে আমার দু’বার সাক্ষাৎ হয়েছে: একবার লন্ডনে আর একবার ঢাকায়। কথাবার্তায় ও আলাপে অত্যন্ত সজ্জন, আলোকিত, বিনয়ী ও অমায়িক ব্যক্তিত্ব মনে হয়েছে। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মহোদয়ের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি। রাষ্ট্রের অভিভাবক ও সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদধারি ব্যক্তি হিসেবে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন - এমন প্রত্যাশা করছি।

নাজির আহমদ: বিশিষ্ট আইনজীবী, রাষ্ট্রচিন্তক, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী এবং ইংল্যান্ডের প্র্যাকটিসিং ব্যারিস্টার।
ইমেইল: [email protected]