জ্বালানি তেলের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের গণপরিবহনের ভাড়া বেড়েছে। গত বৃহস্পতিবার ভাড়া সমন্বয়ের ঘোষণা দেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। শনিবার সন্ধ্যায় আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটের বাসযাত্রীদের জন্য নতুন নির্ধারিত ভাড়ার তালিকাও প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। জ্বালানির মূল্য
বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে নতুন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। বাস সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পূর্বের ভাড়ার সঙ্গে বাড়তি ভাড়া তুলনা করলে রুটভেদে বাস ভাড়া ৫০ থেকে ১০০ টাকা বাড়ানো হচ্ছে।
ঢাকাসহ দূরপাল্লার সব পথেই প্রতিটি বাস রুটের জন্য আলাদা আলাদা তালিকা রয়েছে। রাজধানীর বাসের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা। এ ছাড়া গ্যাসচালিত বাসের ক্ষেত্রে নতুন ভাড়া হার কার্যকর হবে না। এ ছাড়া ভাড়া ভগ্নাংশ হলে ৫০ পয়সার বেশি হলে ১ টাকা যুক্ত হবে। ৫০ পয়সার কম হলে সেটা নেয়া যাবে না। সরকার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের ভাড়া নির্ধারণ করে না। ফলে এই শ্রেণির বাসের ভাড়া পরিবহন মালিকদের ইচ্ছার ওপর এবং নির্দিষ্ট পথে প্রতিযোগিতার ওপর নির্ধারিত হয়। এ ছাড়া বাসের মান ও আসনসংখ্যা কতো, সেটিও ভাড়া নির্ধারণের ওপর প্রভাব ফেলে।
আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বাস ভাড়া
গত রোববার সরজমিন ঢাকার বড় বাস টার্মিনাল মহাখালী বাস টার্মিনাল ঘুরে সেখানকার বাস কাউন্টার-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছে মানবজমিন প্রতিবেদক। বাস-সংশ্লিষ্টরা জানান, বিআরটিএ নির্ধারিত পূর্বের ভাড়া অনুযায়ী যাত্রীরা ভাড়া দিতে চান না। অর্থাৎ, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও কম দিয়ে আসছেন আগ থেকেই। ফলে নতুন নির্ধারিত ভাড়ার বাড়তি অঙ্ক আদায় করতে পারবেন কিনা নিশ্চিত নন তারা। তাই নতুন নির্ধারিত ভাড়ার সঙ্গে সমন্বয় করে বাড়তি ৫০ থেকে ১শ’ টাকা ভাড়া আদায় করবেন বলে জানা তারা। তার মানে মোট ভাড়া পূর্বের নির্ধারিত ভাড়ার সমান হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।
নতুন ভাড়ার তালিকা অনুযায়ী, ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে চট্টগ্রামসহ সিলেট বরিশাল ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন রুটের ভাড়া ৩৩৫ টাকা থেকে ৭০৮ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। গাবতলী থেকে পঞ্চগড়, রাজশাহীসহ উত্তরবঙ্গের জেলাসমূহের ভাড়া ৫০১ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার ২৮১ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, শেরপুর, দিনাজপুর ও লালমনিরহাটের ভাড়া ২৯৪ টাকা থেকে ১২শ’ টাকা পর্যন্ত ধরা হয়েছে।
কিছু কিছু বাস চলছে পূর্বের ভাড়াতেই
মহাখালী বাস টার্মিনালের কাউন্টার-সংশ্লিষ্টরা জানান, ভাড়া সমন্বয় করা হলেও কিছু কিছু বাসে আগের ভাড়াতেই যাত্রী নেয়া হচ্ছে। টাঙ্গাইলের বিনিময় বাসের মালিক শফিকুল ইসলাম বলেন, সাধারণত আমাদের ভাড়া বাড়তি হিসেবে টাকা আগে ৩৮৪ টাকা ছিল। কিন্তু সে ভাড়াটাই মানুষ ২শ’ থেকে আড়াইশ’ টাকা দিতো। এখন ভাড়া বাড়লেও আড়াইশ’ টাকাই দিচ্ছে। বগুড়ার বাস একতা পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার মোহাম্মদ আখতার হোসেন বলেন, আমরা চার্ট লাগিয়ে লাগালেও এখনো নতুন করে বেশি ভাড়া নিচ্ছি না। মালিক এখনো ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেননি। এখনো বলা যাচ্ছে না কবে থেকে ভাড়া বাড়িয়ে নেয়া হবে।
লালমনিরহাটের বুড়িমারীগামী ফাহমিতা এক্সপ্রেসের টিকিট বিক্রেতা অমিত জানান, বুড়িমারীতে ২০২৪ সালের নির্ধারিত ভাড়া ১২শ’ টাকার বেশি হলেও এখনো ৮শ’ টাকাই নেয়া হচ্ছে। সম্প্রতি ভাড়া বাড়লেও তা কার্যকর হয়নি।
লালমনিরহাটের বুড়িমারীর অন্য বাস এসআর ট্রাভেলসের ম্যানেজার মোহাম্মদ আসাদ বলেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়ায় যদি বাস চালানো হয় মানুষ যেতেই পারবে না। কারণ সরকার নির্ধারিত ভাড়া অনেক বেশি। আমরা এর চেয়ে কম নিয়ে থাকি। আগে যে ভাড়া সরকার নির্ধারণ করে দিয়েছিল প্রায় দেড়শ’ টাকা কম নেয়া হতো। এখন নতুন নিয়মে আগের নির্ধারিত ভাড়াই হয়তো নিতে হবে।

লিমা
২ মাস আগেবিএনপির উন্নয়নের যাত্রা শুরু।