জনপ্রিয় ব্যক্তিদের কণ্ঠ নকল করে ওষুধ বিক্রি, গ্রেপ্তার ১০

ফন্ট সাইজ:

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জনপ্রিয় ব্যক্তিদের কণ্ঠ ও ভিডিও নকল করে প্রতারণার মাধ্যমে ওষুধ বিক্রির সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী এবং ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় প্রায় ৩ টন যৌন উত্তেজক ওষুধসহ বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ।

তিনি বলেন, চক্রটি মিজানুর রহমান আজহারী, ডা. জাকির নায়েক, ডক্টর জাহাঙ্গীর কবির ও তাসলিম জারার মতো জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের কণ্ঠ ও ভিডিও এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে নকল করতো। এরপর সেসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করে নিম্নমানের যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রি করা হতো।
পুলিশ এই কৌশলকে ‘অত্যাধুনিক প্রতারণা’ হিসেবে অভিহিত করেছে, যেখানে বাস্তব ব্যক্তির চেহারা ও কণ্ঠ ব্যবহার করে মানুষের আস্থা অর্জন করা হতো।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার শেষ কলোনির একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির মূল কল সেন্টার ও পরিচালনাকেন্দ্র শনাক্ত করা হয়। সেখান থেকেই এই প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। অভিযানে চট্টগ্রাম ও ঢাকা থেকে মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের বয়স ১৯ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। চক্রটির মূল হোতা সারাফাত হোসেন প্রযুক্তি ও ওয়েব ডিজাইনে দক্ষ। গ্রেপ্তার হওয়া অপর সদস্য শাফায়েত হোসেন শুভ এআই ব্যবহার করে ভুয়া কনটেন্ট বা বিজ্ঞাপন তৈরি করতেন।

অভিযানকালে মোহাম্মদপুরের একটি ওয়ার হাউজ (গুদাম) থেকে প্রায় ৩ টন যৌন উত্তেজক ওষুধ জব্দ করা হয়। এ ছাড়া প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ১১টি ল্যাপটপ, ১৩টি স্মার্টফোন, ৩৪টি ফিচার ফোন, ২১টি সিম কার্ড এবং ২টি পেনড্রাইভ উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে আরও জানা গেছে, চক্রটি চট্টগ্রাম থেকে প্রচারণা চালালেও পণ্য সরবরাহ করা হতো ঢাকার মোহাম্মদপুরের গুদাম থেকে। পাঠাও ও স্টিডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’ পদ্ধতিতে সারা দেশে এসব পণ্য সরবরাহ করা হতো। তবে সংশ্লিষ্ট কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ বলেন, এটি একটি বড় নেটওয়ার্ক। আমরা এই চক্রের আরও সদস্য এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা গোডাউনগুলো শনাক্তে কাজ করছি। একই সঙ্গে ভুয়া ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটগুলো বন্ধের প্রক্রিয়া চলছে। এসময় সমপ্রতি দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি পুলিশের প্রটেকশন বিভাগের দায়িত্ব। তারা সহযোগিতা চাইলে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেয়া হবে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন