সরকারি জায়গায় ভবন নির্মাণের অভিযোগ

সরকারি জায়গায় ভবন নির্মাণের অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীনারায়ণপুরে ভূমিগ্রাসী সহিদ উল্যাহ’র বিরুদ্ধে সরকারি ও সাধারণ মানুষের সম্পত্তি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি ও সাধারণ মানুষের সম্পত্তি উদ্ধারে স্থানীয়রা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, ভূমিমন্ত্রী, সচিবসহ জেলা-উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। শনিবার দুপুরে সরজমিন গিয়ে জানা যায়, সহিদ উল্যাহ’র পিতা মৃত কোরবান আলীর নামে ১৯৬৯ সালে ১.২৩ একর ভূমি কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য অস্থায়ী লিজ দেয়া হয়। ২০১৯ সালে সহিদ উল্যাহ কৃষিজমির উপর সরকারের অনুমতি না নিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ এবং আশপাশের অনেক নিরীহ মানুষের ভূমি দখল করে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করেন।

ক্ষতিগ্রস্তরা প্রতিবাদ করলেও কোনো লাভ হয়নি। পরে ক্ষতিগ্রস্তদের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) সরজমিন রিপোর্টের পর শুনানি শেষে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার গত ১৪ই নভেম্বর ২০১৯ ইং স্থাপনা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন। এরপর সহিদ উল্যাহ সরকারের বিরুদ্ধে একে একে বেগমগঞ্জ বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারী জজ আদালত, বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা জজ ১ম আদালত ও হাইকোর্টে তিনটি মামলা দায়ের করলেও সব মামলায় সরকার পক্ষে রায় হয়। সবশেষ ১১ই এপ্রিল ২০২২ ইং তারিখের হাইকোর্টের রায়ের নথিটি রহস্যজনক কারণে এখনো নোয়াখালীতে প্রেরণ করা হয়নি। এই সুযোগে উল্লিখিত ৩টি মামলার রায় গোপন করে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সহিদ উল্যাহ আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে উপর মহলকে ম্যানেজ করে সরকারি ভূমির উপর বহুতল ভবন নির্মাণ করে দিব্যি বসবাস করছেন।

সেই সঙ্গে আশপাশের নিরীহ মানুষের সম্পত্তি দখল করে নিয়েছেন। হাইকোর্টসহ ৩টি আদালতের রায়কে অমান্য করে এই ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। যা দেশের উচ্চ আদালতসহ অন্যান্য আদালতের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন বলে মন্তব্য করেছেন এলাকাবাসী।

এলাকাবাসী জানায়, দ্রুত সময়ের মধ্যে সহিদ উল্যাহ’র নির্মিত ভবন উচ্ছেদ করা না হলে তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে সরকারি জায়গা ও সাধারণ মানুষের জায়গা-জমি দখল করে নিবে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহিদ উল্যাহ মানবজমিনকে জানান, আমি সরকারের কাছ থেকে লিজ নিয়েই বাড়ি করেছি। সরকারি জায়গা অস্থায়ী লিজ নিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন, স্থানীয়দের জায়গা দখল করেছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার কায়েসুর রহমান জানান, অস্থায়ী লিজ নিয়ে সরকারি জায়গায় বহুতল ভবন নির্মাণ করার সুযোগ নেই। কেউ এমনটা করলে লিজ বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন