মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার ভুকশিমইলে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে একটি বাড়ির সীমানা প্রাচীর ভেঙে ওই পরিবারের আরেকটি বাড়িতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার বিকালে উপজেলার ভুকশিমইল ইউনিয়নের মীরশংকর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী সিলেট ব্যাংক এশিয়া কর্মকর্তা আব্দুস সালামের পরিবারের বৃদ্ধ লেচাঁন উদ্দিন (৭৪)সহ ৭ জন গুরুতর আহত হন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতরা হলেন-লেচাঁন উদ্দিন (৭৪), তানজিলা বেগম (২৬), আব্দুল হাসিম চৌধুরী (৩৫), সমেজা বেগম (৪০), আছিমা বেগম, কয়েছ মিয়া, আছমল আলী। আহতদের কুলাউড়া হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে আরমান আলী গংদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ও অতর্কিত হামলায় সালামের পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে কেউ কেউ ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেন। জানা যায়, মীরশংকর গ্রামের বাসিন্দা সালামের পৈতৃক বসতভিটার সীমানা নিয়ে পার্শ্ববর্তী বাড়ির বাসিন্দা আরমান আলীর বিরোধ চলছে। দুই বাড়ির মাঝখানে একটি সরু রাস্তা বিদ্যমান রাখা না রাখা নিয়ে উভয়ের মধ্যে বিরোধ চলছে। বিষয়টি স্থানীয় এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধি একাধিক সালিশ বৈঠক করলেও সুরাহা হয়নি। সালাম জানান, সম্প্রতি বিরোধপূর্ণ জায়গায় আরমান তার অংশের সীমানাকে রাস্তার পাশে বর্ধিত করে বাউন্ডারি নির্মাণ শুরু করেন। তিনি বাধা দিলেও তা মানেননি। পরে সালাম নিরুপায় হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন। তিনি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মৌলভীবাজার আদালতে মামলা দায়ের করেন।
আদালত এই জায়গায় আর কোনো নির্মাণকাজ না করাসহ ১৪৪ ধারা (নিষেধাজ্ঞা) জারি করেন। কিন্তু ঘটনার দিন পূর্ব পরিকল্পিতভাবে স্থানীয় আরক আলীর ছেলে আরমানের নেতৃত্বে তার ভাই ছালেক আহমদ, মখলিছ মিয়া ও ছমরু মিয়াসহ অর্ধশতাধিক লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সালামের বর্তমান বাড়িতে হামলা চালায় ও তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরে বিরোধপূর্ণ সালামের পৈতৃক বাড়ির জায়গায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সীমানা প্রাচীর গুঁড়িয়ে দিয়েছে। কুলাউড়া থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান মোল্লা বলেন, এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে হামলা ও দেয়াল ভাঙচুরের সত্যতা পেয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।
