বরগুনার আমতলী পৌর শহরে শারমিন আক্তার রুবা (২৭) নামে এক নারীর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে- পৌর শহরের মহিলা কলেজ সড়ক এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় এক বছর ধরে মা জাহানারা বেগমকে নিয়ে বসবাস করছিলেন শারমিন। স্থানীয়দের অভিযোগ-ওই বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন রাহাত ফকির। তাদের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন ছিল। কখনো তারা স্বামী-স্ত্রী, কখনো প্রেমিক- প্রেমিকা হিসেবে পরিচয় দিতেন বলে জানান স্থানীয়রা।
তবে মৃত্যু নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ দেখা দিয়েছে। ঘটনাসূত্রে জানা যায়-গত বুধবার সকালে শারমিন ও রাহাতের মধ্যে ঝগড়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় বাসা থেকে কান্নার শব্দ শুনতে পান প্রতিবেশীরা। পরে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে রাহাত একটি এম্বুলেন্স এনে শারমিনকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়- রাহাত দাবি করেন শারমিন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এদিকে ঘটনার আগে শারমিন তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে লেখেন- আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না। আমার জীবন যারা নষ্ট করেছে, আল্লাহ্ যেন তাদের ধ্বংস করে দেন। তবে তার মৃত্যুর পর ওই পোস্ট ও রাহাতের সঙ্গে থাকা কয়েকটি ছবি মুছে ফেলা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে গত শুক্রবার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকে রাহাতের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এ বিষয়ে আমতলী থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন- মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
