কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নে সরকার ঘোষিত জেলেদের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য সাদেকা বেগমের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে- ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সাদেকা বেগম ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তালিকাভুক্ত ৩৯১ জন জেলের কাছ থেকে কার্ড দেয়ার নামে প্রতিজনের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে আদায় করেছেন। এ ঘটনায় একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়- চাল বিতরণের সময় একদিকে উপকারভোগীদের কার্ড বা টোকেনে স্বাক্ষর করছেন এবং অন্য হাতে টাকা গ্রহণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ-সরকার জেলেদের জন্য যে খাদ্য সহায়তা বরাদ্দ দিয়েছে, তা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়ার কথা।
কিন্তু কার্ড বিতরণ ও চাল উত্তোলনের নামে অর্থ নেয়া সরকারি নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তারা বলছেন, দরিদ্র ও অসহায় জেলেদের কাছ থেকে এভাবে অর্থ আদায় অনৈতিক এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। নেটিজনদের দাবি, মাছের প্রজনন মৌসুমে সাগর ও নদ-নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকায় নিবন্ধিত জেলেদের জীবিকা নির্বাহে সহায়তা দিতে সরকার বিশেষ খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় রাজাখালী ইউনিয়নের ৫ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোট ৫৯৪ জন কার্ডধারী জেলেকে ৭৭ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। সরকারের এই মানবিক উদ্যোগকে কেন্দ্র করে যদি অর্থ লেনদেন হয়, তাহলে প্রকৃত উপকারভোগীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। অভিযুক্ত ইউপি সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি সন্ধ্যায় কথা বলবেন বলে লাইন কেটে দেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এমদাদুল হক শরীফ বলেন-অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। উল্লেখ্য, গত (১৯শে এপ্রিল) রাজাখালী ইউনিয়নের, ৫নং ওয়ার্ডের ৩৯১ জন জেলের কাছে এ চাল বিতরণ করা হয়।
