সর্বনাশ

সর্বনাশ

ফন্ট সাইজ:

নেত্রকোণায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সরবরাহকৃত বি-৮৮ জাতের ধানবীজে মিশ্রণের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। প্রত্যাশিত ফলন না হওয়ায় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। জানা যায়, বেসরকারি কোম্পানির ভেজাল বীজের আশঙ্কা এড়িয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা রেখে চলতি বোরো মৌসুমে কৃষকরা বি-৮৮ জাতের বীজ সংগ্রহ করে আবাদ করেন এবং নিয়মিত পরিচর্যাও চালান। তবে ধানে শীষ আসার পর দেখা যায়, জমিতে একইসঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন জাতের ধান রয়েছে এবং ফলে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কৃষি উপকরণ বিক্রেতাদের বাকবিতণ্ডা হয় এবং পরে বিষয়টি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নজরে আসে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা স্থানীয় কৃষি অফিসে অভিযোগ দায়ের করেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন জেলার বৃহত্তর কেন্দুয়া উপজেলার কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উজ্জ্বল সাহা জানান, ১৩টি ইউনিয়নে তদন্ত করে ৩৪২ হেক্টর জমিতে বি-৮৮ মিশ্র বীজের আবাদ হয়েছে। এতে ১ হাজার ৫৪৫ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিনি আরও জানান, স্বাভাবিক অবস্থায় এসব জমি থেকে প্রায় ২ হাজার ১০০ টন ধান উৎপাদনের কথা থাকলেও এবার অন্তত ৩০ শতাংশ কম ফলনের আশঙ্কা রয়েছে। এতে প্রায় ৫০০ টন ধান কম উৎপাদিত হতে পারে, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকারও বেশি। এদিকে, বারহাট্টা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা জানান, তার উপজেলায়ও সব ইউনিয়নে একই সমস্যা দেখা দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রায় ৮০ হেক্টর জমিতে এ সমস্যা শনাক্ত করা হয়েছে।

মোহনগঞ্জ কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রায় প্রতিদিনই এ ধরনের অভিযোগ আসছে। একই ধরনের ক্ষতির খবর জেলার সব উপজেলায় রয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উজ্জ্বল সাহা বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। নেত্রকোণা বিএডিসি’র উপ-সহকারী পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, জেলার সব উপজেলা থেকেই অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং ইতিমধ্যে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ফসলের এই ক্ষতি তাদের কাছেও দুঃখজনক বলে জানান তিনি।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন