দৌলতপুরে আলোচিত ‘পীর’ হত্যা ১৫ দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি কোনো আসামি

দৌলতপুরে আলোচিত ‘পীর’ হত্যা ১৫ দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি কোনো আসামি

ফন্ট সাইজ:

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আলোচিত ‘পীর’ শামীম জাহাঙ্গীর ওরফে আব্দুর রহমান হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার ১৫ দিন পার হলেও হত্যাকাণ্ডে জড়িত কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি এখনো। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে দরবার সংলগ্ন এলাকায় কয়েক দফা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে পীরের ভক্ত ও এলাকাবাসী। তারপরও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ইসলাম ধর্ম অবমাননাসহ নানা কর্মকাণ্ডে আলোচিত ও সমালোচিত কথিত পীর শ্রী শামীম জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ড নিয়ে দেশ জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় পীরের ভক্ত ও পরিবারের সদস্যদের মাঝে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। আসামিরা এলাকায় ঘুরাফেরা করলেও তারা আইনের আওতায় না আসায় জনমনে সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রশ্ন। তবে পুলিশের দাবি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে। পীরের ভক্তরা জানান, আমরা চাই বাবার হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে তাদের দ্রুত শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

তবে হত্যাকাণ্ডের ১৫ দিন হলেও এবং প্রকাশ্য দিবালোকে নির্মম হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ দানা বাঁধছে তাদের মাঝে। মামলার বাদী ও নিহত পীর শামীম জাহাঙ্গীরের বড় ভাই ফজলুর রহমান হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ার বিষয়ে কথা বলতে না চাইলেও এতদিনে কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান বলেন- এখনো পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি, তবে অভিযান চলমান রয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এর আগে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ এনে গত শনিবার (১১ই এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে দৌলতপুর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে শতাধিক বিক্ষুব্ধ জনতা পীর শামীম জাহাঙ্গীরের আস্তানা বা দরবারে হামলা চালায়। এ সময় রাজীবসহ বিভিন্ন দলের হামলাকারী যুবকরা পীর শামীমকে তার কক্ষ থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে দোতলা থেকে তাকে নিচে ছুড়ে ফেলে। এরপর হামলাকারীরা সংঘবদ্ধভাবে আস্তানায় আগুন জ্বালিয়ে ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাটের তাণ্ডবলীলা চালায়। হত্যাকাণ্ডের ৩ দিন পর গত সোমবার (১৩ই এপ্রিল) রাতে নিহতের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক ফজলুর রহমান সান্টু বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৮০-২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন