রাজধানীর শাহবাগে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের হাঙ্গামায় দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন- সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষক ড. মো. আনোয়ার হোসেন (আহ্বায়ক), সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষক জাওয়াদ ইবনে ফরিদ (সদস্য সচিব), আইসিটি বিশেষজ্ঞ ও সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মোসাদ্দেক খান। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘অশালীন ফেসবুক পোস্টের’ ঘটনায় ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটি অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। অভিযুক্তকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া শাহবাগ থানায় শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুব কায়সারকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের আরেকটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. শান্টু বড়ুয়া, ড. মো. মোসাদ্দেক খান, ড. রফিকুল ইসলাম, রেজাউল করিম সোহাগ ও আমজাদ হোসেন। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এর আগে, ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট দেয়াকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার রাতে হাতাহাতিতে জড়ায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ ৩ দফা দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ডুজা)।
দাবিগুলো হলো- হামলায় জড়িত সকল শিক্ষার্থীকে অবিলম্বে বহিষ্কার এবং তদন্ত সাপেক্ষে তাদের স্থায়ী বহিষ্কার নিশ্চিত করা, যেসব হামলাকারীর ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে তদন্তসাপেক্ষে তাদের সনদপত্র বাতিল করতে হবে এবং উল্লেখিতদের বাইরে হামলায় জড়িত আরও ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করে তাদেরও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করতে হবে।
ডুজা জানায়, দায়িত্ব পালনকালে ডুজার অন্তত ১০ জন সদস্যের ওপর ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় শিক্ষার্থী হামলা চালায়। দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় সাংবাদিকদের ওপর এমন হামলা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাকস্বাধীনতা, মুক্তচর্চা ও সামগ্রিক মর্যাদার ওপর গুরুতর আঘাত। হামলায় সাংবাদিক সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি মানজুর হোসাইন মাহি, সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলাম, মানবজমিনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান খান, ঢাকা ট্রিবিউনের শামসুদ্দৌজা নবাব, ঢাকা মেইলের মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন সিফাত, নয়া দিগন্তের হারুন ইসলাম, ডেইলি অবজারভারের নাইমুর রহমান ইমন এবং দেশ রূপান্তরের খালিদ হাসানসহ অন্তত ১০ জন সাংবাদিক আহত হন।
এদিকে শাহবাগ থানায় গণমাধ্যমকর্মী ও ডাকসু নেতাদের ওপর হামলার অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। শুক্রবার সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার একটি কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার তদন্তের জন্য কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি জহির রায়হান আহমেদ, এ বি এম ইজাজুল কবির রুয়েল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নাছির উদ্দিন শাওনের নেতৃত্বে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, তদন্ত কমিটিকে আগামী পাঁচদিনের মধ্যে যথাযথ তদন্ত সম্পন্ন করে কেন্দ্রীয় সংসদের কাছে লিখিত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ নির্দেশনা প্রদান করেছেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার রাতে ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ মিছিল করে ছাত্রশিবির।
শাহবাগের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন
বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার
২৫ এপ্রিল (শনিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
