অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশে জ্বালানির সংকট রয়েছে, তবে তা শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি বৈশ্বিক সংকট। বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে, তবে সরকার জনগণের কথা বিবেচনা করে অনেক দেরিতে এবং তুলনামূলক কম হারে মূল্য সমন্বয় করেছে। গতকাল সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম কেন্দ্রীয় মন্দির ‘সরস্বতী জ্ঞান মন্দির’ উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকট নাই, এ কথা বলার সুযোগ নেই। সংকট তো আছে, দেশের ভেতরে না, সংকট দেশের বাইরে। এটা বাংলাদেশে যেমন, সারা বিশ্বেই একই সংকট। আমরা একমাত্র দেশ যে খুব দেরি করে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করেছি। আশপাশের দেশগুলো কয়েকগুণ মূল্য বৃদ্ধি করেছে। জনগণের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে আমরা অনেক দেরিতে মূল্য বৃদ্ধি করেছি, তাও খুবই সামান্য। আমাদের তুলনায় বিশ্বের অন্যান্য দেশে বহুগুণ বেশি দাম বেড়েছে। আমি ওয়াশিংটনে দেখলাম, দাম দ্বিগুণ হয়েছে।
সরকারের স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে আমীর খসরু বলেন, আমরা সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছি। বিরোধী দলসহ একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো স্বচ্ছতা। আমরা পুরো বিষয়টি স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালনা করছি। এখানে লুকোচুরির কিছু নেই। ব্যাংক খাতের বর্তমান অবস্থা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশ থেকে ২৩০ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। ব্যাংকগুলো লুটপাট করে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সময় লাগবে। জনগণ ব্যাংকে রাখা অর্থ তুলতে পারছে না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা সেটি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি অনেকদিন পরে এসেছি। মনে হচ্ছে আমি এক অসাধারণ প্রকৃতির মধ্যে প্রবেশ করেছি। এই পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করতে হবে। এজন্য একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। একটি সুস্থ ক্যাম্পাস সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হলে এটি নিশ্চিত করতে হবে।
উপাচার্যকে আবাসন ও হোস্টেল নির্মাণের বিষয়ে প্রস্তাব দিতে বলেছেন এবং সরকার এ বিষয়ে সহযোগিতা করবে। এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, সকল ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের মানুষ মিলেমিশে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয়ে দেশকে এগিয়ে নেয়ার যে ধারণা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দিয়েছিলেন, সেটিই আজকের বাস্তবতায় আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। আমরা কোনো মানুষকে ধর্ম বা বর্ণ দিয়ে আলাদা করে দেখতে চাই না। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, অদুল-অনিতা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অদুল কান্তি চৌধুরী ও কো-চেয়ারম্যান অনিতা চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিন হাজার সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। ২০১১ সালে সনাতন ধর্ম পরিষদের দাবির প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর ক্যাম্পাস এলাকায় প্রায় ২০ হাজার বর্গফুট জমিতে কেন্দ্রীয় মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। ২০১২ সালে এটি বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটে অনুমোদন পায়। পরে অদুল-অনিতা ট্রাস্টের অর্থায়নে নির্মিত এই মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ২০১৯ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি।
