ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, গুলি, ভাঙচুর সাংবাদিকসহ আহত ৭

ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ

ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, গুলি, ভাঙচুর সাংবাদিকসহ আহত ৭

ফন্ট সাইজ:

পাবনার ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ, গুলিবর্ষণ এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সাংবাদিক ও পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। 

গতকাল দুপুরে কলেজের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় কলেজ চত্বরে থাকা ছাত্রদলের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে একটি তাজা ককটেল উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার ছাত্রশিবিরকে ‘গুপ্ত সংগঠন’ আখ্যা দিয়ে তাদের কার্যক্রমের প্রতিবাদে কলেজে বিক্ষোভ করে ছাত্রদলের বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মীরা। এর জেরে বৃহস্পতিবার পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করে ছাত্রশিবির। নির্ধারিত সময়ে উভয়পক্ষ মুখোমুখি হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে অন্তত দুই রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঈশ্বরদী কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি খালেদ বিন বলেন, ছাত্রশিবিরের কর্মসূচিতে আমাদের আপত্তি নেই। তবে তারা বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে পারে এমন তথ্য আমাদের কাছে ছিল। আমরা তা প্রতিহত করতে প্রস্তুত।

অন্যদিকে কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সজীব হাসান অভিযোগ করেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে ছাত্রদলের কর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে হামলা চালায়। আমরা প্রতিরোধ করলে তারা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আমজাদ হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকতেই পারে। তবে ইনকোর্স পরীক্ষা চলায় সীমিত সময়ের মধ্যে কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেয়া হয়েছিল। বহিরাগতদের উপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বহিরাগত থাকার বিষয়টি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।

ঈশ্বরদী থানার ওসি আসাদুর রহমান জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বহিরাগতদের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং আপাতত ক্যাম্পাসে কোনো কর্মসূচি করতে দেয়া হবে না। বিস্ফোরক বা অন্যান্য অভিযোগে মামলা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন