২১ বছর পর ছেলেকে ফিরে পেলেন বাবা-মা

২১ বছর পর ছেলেকে ফিরে পেলেন বাবা-মা

ফন্ট সাইজ:

হারিয়ে যাওয়ার ২১ বছর পর অবশেষে ছেলেকে ফিরে পেলেন মা-বাবা। তাকে ফিরে পেতে অধীর আগ্রহে এতদিন অপেক্ষায় ছিলেন স্বজনরাও। ২০০২ সালে ১৫ বছর বয়সে মা-বাবার বুক শূন্য করে ঢাকা থেকে হারিয়ে যায় আলী আক্তার (৩৮)। দীর্ঘ একুশ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ফিরে পাওয়া গেল হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে। ভোলা জেলার রতনপুর গ্রামের শিবপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. ফারুক হোসেনের জীবনে যেন নতুন করে আলো ফিরে এসেছে। বুকভরা কষ্ট, অজানা শঙ্কা আর না-পাওয়ার বেদনা শেষে তিনি ফিরে পেলেন তার প্রতিবন্ধী ছেলে আলী আক্তার (বর্তমান বয়স ৩৮)কে।

প্রায় ২১ বছর আগে মাত্র ১৭ বছর বয়সে আলী ঢাকার জুরাইনে খালার বাসায় বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়। পাঁচ ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার বড় থাকায় সে পরিবারের প্রধান ভরসা। ছেলেকে খুঁজে পেতে হাল ছাড়েননি বাবা ফারুক হোসেন। ঢাকার অলিগলি থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন জেলায় খোঁজ করেছেন তিনি। মাইকিং করেছেন, মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন, কিন্তু কোনো সন্ধান পাননি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিরাশা গ্রাস করলেও বুকের ভেতর একফোঁটা আশা জেগেই ছিল। অবশেষে সেই আশার আলো জ্বলে ওঠে এক ফোনকলে। ফারুক হোসেনের জামাইয়ের বাবা চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার মদনা-পারকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন থেকে জানান, তার চেহারার সঙ্গে মিল রয়েছে এমন এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভবঘুরে হিসেবে ঘোরাফেরা করছে।

খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে ছুটে যান ফারুক। বহু বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটে সেই মুহূর্তে চোখের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটিই তার হারানো ছেলে আলী। তাকে শনাক্ত করতে কোনো ভুল হয়নি। আবেগে ভেঙে পড়েন বাবা, আর ফিরে পাওয়ার আনন্দে আপ্লুত হয়ে ওঠে আশপাশের মানুষও। স্থানীয়রা জানান, গত ২০-২১ বছর ধরে আলী ওই এলাকায় ভবঘুরে অবস্থায় বসবাস করছিলেন। মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় তিনি ঠিকভাবে কথা বলতে পারতেন না। গ্রামের মানুষই তাকে খেতে দিতেন, যা পেতেন তাই খেতেন। একটি চায়ের দোকানেই ছিল তার আশ্রয়স্থল। পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আজির রহমান বলেন, সকালে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। বাবা-ছেলের চেহারার মিল দেখে নিশ্চিত হয়ে তাকে তার বাবার হাতে তুলে দেই।

দর্শনা থানার ওসি মেহেদী হাসান জানান, ছেলেটিকে নিয়ে কোনো জিডি বা মামলা না থাকায় এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে নিশ্চিত হওয়ার পর তার বাবার কাছেই হস্তান্তর করা হয়েছে। ছেলেকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত ফারুক বলেন-আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি। আমার ছেলেকে ফিরে পাবো এই আশা কখনো ছাড়িনি। যারা এতদিন আমার ছেলেকে দেখাশোনা করেছেন, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। একুশ বছরের এই গল্প শুধু একটি পরিবারের পুনর্মিলনের নয় এটি এক পিতার অবিচল ভালোবাসা, অদম্য আশা এবং মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যেখানে হারিয়ে যাওয়া বড় ছেলে ফিরে এসে যেন আবার নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখালো পুরো পরিবারকে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন