ময়মনসিংহের ফুলপুরে ভূমিহীন দরিদ্র মানুষের জন্য নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা নানা সমস্যার মধ্যদিয়ে বসবাস করছেন। নিচু ভূমির কারণে বর্ষায় জলাবদ্ধতা, বিশুদ্ধ পানির সংকট, অপরিকল্পিত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাসহ নানা সমস্যায় চরম ভোগান্তির অভিযোগ সুবিধাভোগীদের। প্রকল্পগুলোর বরাদ্দ পাওয়া বেশ কিছু পরিবার আশ্রয়ণ কেন্দ্রে থাকেন না।
আট পরিবারের একটি আশ্রয়ণ কেন্দ্রে সাতটি পরিবারকেই অনুপস্থিত পাওয়া গেছে। সকল প্রকল্পের নির্মিত ঘরগুলো খুবই নিম্নমানের। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় অধিকাংশ ঘরের চাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সরজমিন দেখা যায়, ছনধরা ইউনিয়নের হাটপাগলা গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পের আট পরিবারের জন্য নির্মিত আটটি ঘরের মধ্যে সাতটিই খালি পড়ে আছে। একটি ঘরে একটি পরিবারকেই সেখানে বসবাস করতে দেখা গেছে।
শুরুতে আটটি ঘরে লোকজন থাকলেও আওয়ামী সরকারের পতনের পর সাতটি পরিবার ঘর ছেড়ে চলে যায়। সিংহেশ্বর ইউনিয়নের মোকামিয়া গ্রামের আশ্রয়ণ কেন্দ্রে ১০ পরিবারের মধ্যে বসবাস করেন আট পরিবার। এ প্রকল্পের ভূমির উচ্চতা পার্শ্ববর্তী ফসলি জমির প্রায় সমান ও ঘরের ভিটিও বেশ নিচু। ফলে বর্ষাকালে আঙিনা ও ঘরের বারান্দা পানিতে তলিয়ে যায়। এ ছাড়া, একটিমাত্র নলকূপ সকল পরিবারের জন্য যথেষ্ট নয় বাসিন্দারা জানান। প্রকল্পের বাসিন্দা জোছনা বেগম জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই তাদের ঘরে পানি পড়ে।
ফুলপুর সদর ইউনিয়নের নগুয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, ৩৬ পরিবারের জন্য নির্মিত ৩৬টি ঘরের মধ্যে পাঁচটি ঘরে কোনো লোকজন নেই। এই প্রকল্পে পয়ঃনিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাথরুম ও টয়লেটে পানি জমে থাকে। এ ছাড়া, চারদিকের ফসলি জমি ও প্রকল্পের আঙিনার উচ্চতা প্রায় সমান হওয়ায় সারা বর্ষায় আঙিনা পানিতে তলিয়ে থাকায় ঘর থেকে বের হলেই হাঁটুপানি। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় বলে বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এদিকে, রূপসী ইউনিয়নের রূপসী গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারী পাঁচ পরিবারের মধ্যে একটি নলকূপ থাকলেও তা অকেজো পড়ে আছে।
বালিয়া ইউনিয়নের সলঙ্গা গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৫টি পরিবারের মধ্যে পাঁচটিতে কোনো লোক পাওয়া যায়নি। তাদের কেউ কেউ মাঝেমধ্যে আসেন বলে জানান অন্যান্য বাসিন্দারা। এ ছাড়া, নিকটবর্তী রাস্তা থেকে আবাসন প্রকল্পটির দূরত্ব ২শ’ গজের মতো হলেও যাতায়াতের কোনো পথ নেই বললেই চলে। বাসিন্দাদের বাধ্য হয়ে অন্যের বাড়িঘর হয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হতে হয় বলে কেন্দ্রের সকলেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
উপজেলার পাঁচটি আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘুরে দেখা যায়, ৭৪ পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত ৭৪টি ঘরের ১৯টিতে কোনো লোকজন থাকে না। তাদের কেউ কেউ জীবিকার তাগিদে দূরে অবস্থান করেন, আবার কারও কারও নিজস্ব বাড়িঘর রয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া ইসলাম সীমা বলেন, ছনধরা ইউনিয়নের আশ্রয়ণ প্রকল্পের সাতটি ঘর খালি থাকার বিষয়টি নজরে এসেছে। এ বিষয়ে দ্রুত খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া, অন্যান্য আশ্রয়ণ কেন্দ্রের অব্যবস্থাপনার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।
