উত্তরাঞ্চল জুড়ে চলমান তীব্র দাপদাহের মধ্যেই শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এ বছর পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য রাষ্ট্রপক্ষ থেকে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন মিলছে না। বরং প্রায় প্রতিটি পরীক্ষার দিনই উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া যাচ্ছে। তীব্র গরমে শ্রেণিকক্ষে পরীক্ষা দিতে গিয়ে নাজেহাল হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ঘামে ভিজে খাতা নষ্ট হওয়ার উপক্রম হচ্ছে, আর গরমে অনেকেই অসুস্থ বোধ করছে। এমন পরিস্থিতিতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে গত কয়েকদিন ধরেই তাপমাত্রা ৩৪-৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে ওঠানামা করছে। এমন বৈরী আবহাওয়ায় পরীক্ষার হলে ফ্যান সচল থাকাটা ছিল অপরিহার্য। কিন্তু বগুড়া শহর এবং বারো উপজেলাতে পরীক্ষা চলাকালেই বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আগে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে, পরীক্ষার সময় লোডশেডিং হবে না, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতির কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। এতে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বিঘ্নিত হচ্ছে এবং তাদের ফলাফলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বগুড়ার একটি কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়া আদনান ইসলাম বিশাল নামের একজন পরীক্ষার্থী তার কষ্টের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন-আমাদের জন্য এবারের পরীক্ষাটা এক অগ্নিপরীক্ষা। বাইরে প্রচণ্ড রোদ, আর হলের ভেতর ভ্যাপসা গরম। পরীক্ষা শুরু হওয়ার আধাঘণ্টা পরেই কারেন্ট চলে যায়। ঘামে পুরো শরীর ভিজে যায়। ফলে কলম ধরে রাখাই কঠিন হয়ে পড়ে। এমনকি ঘাম পড়ে খাতার কাগজ পর্যন্ত ভিজে যাচ্ছিল। বিদ্যুৎ না থাকায় জানলা দিয়ে আসা গরম বাতাসে দম বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা হয়। সরকার বলেছিল কারেন্ট যাবে না, কিন্তু আমাদের এই কষ্টের কথা কেউ কি ভাবছে? এভাবে গরমে বসে পরীক্ষা দেয়া অসম্ভব হয়ে পড়ছে। কেন্দ্রের বাইরে সন্তানের অপেক্ষায় থাকা অভিভাবকদের চোখেমুখেও ছিল গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষ। বগুড়ার নামকরা একটি কেন্দ্রের সামনে শহীদুজ্জামান নামের এক অভিভাবকের সঙ্গে কথা বললে তিনি তার ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন- রাষ্ট্রপক্ষ থেকে বলা হলো পরীক্ষার সময় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা হবে, অথচ সেই আশ্বাস কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেল। আমার মেয়ে ফ্যান বন্ধ থাকায় সে ঠিকমতো পরীক্ষা দিতে পারছে না।
তিনি আরও বলেন, এই গরমে কোনো শিক্ষার্থী স্ট্রোক করলে বা অসুস্থ হয়ে পড়লে, তবে তার দায় কি বিদ্যুৎ বিভাগ নেবে? আমরা চাই দ্রুত এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হোক। অভিভাবকরা মনে করছেন, দাপদাহ শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। লোডশেডিংয়ের কারণে পরীক্ষার হলের পাশাপাশি, রাতে বাসায় বসে পড়াশোনা করার পরিবেশও বিঘ্নিত হচ্ছে। বগুড়ার মতো শিক্ষা নগরীতে যদি এই অবস্থা হয়, তবে প্রত্যন্ত অঞ্চলের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ তা সহজেই অনুমেয়। সাধারণ মানুষের দাবি, শিক্ষা ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ের মাধ্যমে অন্তত পরীক্ষার বাকি দিনগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক। অন্যথায় এই অসহনীয় গরমে শিক্ষার্থীদের জীবন ও শিক্ষা উভয়ই ঝুঁকির মুখে পড়বে।
