‘গুপ্ত’ নিয়ে সংসদে উত্তাপ

ফন্ট সাইজ:

‘গুপ্ত’ নিয়ে উত্তাপ ছড়িয়েছে জাতীয় সংসদে। সরকারকে নাজেহাল করতে বিরোধী দল চক্রান্ত চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁইয়া। জনগণ আঙ্গুল চুষবে না, বসে থাকবে না এবং তাকিয়ে থাকবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। তার এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁইয়া বক্তব্যে অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি এই বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান। বুধবার প্রেসিডেন্টের ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় এই উত্তাপ সৃষ্টি হয়।

সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁইয়া বলেন, সরকারকে নাজেহাল করতে চক্রান্ত চালাচ্ছে বিরোধী দল। আমি বলতে চাই, আজকে সংসদে আমাদের বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা যে আচরণ দেখাচ্ছে, এতে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশে আগামী দিনে সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি তারা করতে দেবে না- এটাই প্রতীয়মান হচ্ছে।

বিরোধী দলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, বিরোধী দলকে আমি এটাও বলে দিতে চাই- আমাদেরকে যারা ভোট দিয়েছে তারা আঙ্গুল চুষবে না, বসে থাকবে না। তারা প্রতিবাদ করবে, আমাদের ভোটাররা তাকিয়ে থাকবে না।
তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশ একটি শান্তির, উন্নয়নের, সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এই বর্তমান সদ্যজাত সরকার কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্য যে, আমাদের এই সংসদের বিরোধী দলের ভাইয়েরা সংসদের ভেতরে এবং বাইরে এই সরকারকে নাজেহাল করার জন্য যে চক্রান্ত চালাচ্ছে, যে চক্রান্তের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে- এটা কোনোভাবেই একটি সুষ্ঠু বাংলাদেশে মেনে নেয়া যায় না।

বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ’৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধকে তারা মেনে নিতে পারে নাই। যারা ’৭১ সালের স্বাধীনতাকে মেনে নিতে পারে না। তারা বাংলাদেশের উন্নয়ন চাইতে পারে না। ’৭১ সালের জন্ম হওয়া বাংলাদেশকে তারা মেনে নিতে পারে নাই বলে আজকে সদ্যজাত সরকারের বিরুদ্ধে কাজ করছে।

স্পিকারকে সম্বোধন করে আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁইয়া বলেন, আপনি শুনেছেন-চট্টগ্রামে মঙ্গলবার সিটি কলেজে ছাত্রদলের ওপর হামলা করেছে কারা? শিবির। কী অপরাধ ছিল ছাত্রদলের? ছাত্রদল শুধু বলেছে, গুপ্ত, ছাত্রদল লিখেছে গুপ্ত- সেই জন্যই তারা গুপ্ত শব্দকে উল্লেখ করে ছাত্রদলের ওপর হামলা করে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ওপর আঘাত করেছে। আজকে আমাদের বিরোধী দলের ভাইয়েরা ক্ষেপে উঠেছেন, এই সংসদে গণতান্ত্রিকভাবে কথা বলার অধিকার দিতে চায় না। চট্টগ্রামের ছাত্রদল কী কথা বলেছে, গুপ্ত বলেছে। এই সংসদে আমরা নির্বাচিত হয়ে আসছি কথা বলার জন্য। বিরোধী দলের ভাইয়েরা আজকে কণ্ঠ চেপে ধরতে চায় ফ্যাসিস্টের মতো।
বিরোধী দলকে আহ্বান জানিয়ে সরকারদলীয় এই সংসদ সদস্য বলেন, আপনারা আসুন আমাদের সঙ্গে, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাই।

এসময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন মতাদর্শ থাকতে পারে, তাদের কথাবার্তার সবটাই পছন্দ হবে- এমন কোনো বিষয় নয়। কিন্তু অনুগ্রহ করে শুনুন, আমার কথাটি শুনুন। এখন আপনাদের একজন বক্তাকে আমি দিচ্ছি। উনি (বিরোধীদলীয় নেতা) যা যা বলেছেন- প্রয়োজন হলে আপনারা জবাব দিতে পারবেন। বক্তব্যের মাধ্যমে জবাব দেন। একজন বক্তাকে বক্তব্যের সময় অনুগ্রহ করে ডিস্টার্ব করবেন না।

স্পিকার বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল বারী সরদারকে কথা বলার জন্য আহ্বান জানালে বিরোধীদলীয় নেতা উঠে দাঁড়ান। তখন স্পিকার বিরোধীদলীয় নেতাকে বলেন, বিরোধী দলের নেতা বলেন। কিন্তু এই বক্তব্যের মাধ্যমেই জবাব দেবেন, এটাই আমরা আশা করি। কাউকে ডিস্টার্ব করবেন না।

পরে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, প্রথমে আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাই। এখানে যে অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, এটা এক্সপাঞ্জ করা হোক। একজন সংসদ সদস্য, সংসদের ভেতরে দাঁড়িয়ে যে হুমকির ভাষায় কথা বললেন, আমরা এতে আঘাত পেয়েছি এবং আমরা আমাদের ক্ষোভ প্রকাশ করছি। জনগণ বসে থাকবে না, মানে কী? তিনি কি উস্কাইয়া দিচ্ছেন জনগণকে? বিশৃঙ্খলার দিকে? এগুলা সংসদীয় আচরণ না।

এসময় স্পিকার বলেন, আমরা পরীক্ষা করে দেখবো, যদি কোনো অসংসদীয় ভাষা থাকে, সেটা আমরা এক্সপাঞ্জ করবো। আর দ্বিতীয়ত, যেসব বক্তব্য-এটা তো বাংলাদেশের রাজনীতির ভাষা। আমরা চুপ করে থাকবো না। এগুলো তো শত বছর ধরে রাজনীতিবিদরা বলে এসেছেন। এগুলো আপনারা বক্তৃতা যখন দেবেন, এর জবাব দেবেন। কিন্তু বক্তব্য রাখার সময় অনুগ্রহ করে ডিস্টার্ব করবেন না।

ট্যাগসমূহ:

ভিক্ষু শীলানন্দ

২ মাস আগে

গোপন হউক যাই হউক আপনারা যারা বতমানে দেশের দায়িত্ব নিয়ে দেশ চালানোর এসেছেন দেশের মানুষ আপনাদের দায়িত্ব দিয়েছে সাধারণ জনগণের যেন দুঃখের অবসান হয় সেদিকে তাকিয়ে জনগনের জন্য কাজ করুন।গ্রাম গঞ্জে এসে দেখে যান সাধারন মানুষের কি অবস্থা নাই বিদুৎ নাই গ্যাস, আপনারা ঢাকা শহরে অবস্থান করেন, গ্রাম গঞ্জের কি অবস্থা, কাজেই দেশের দায়িত্বে নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষতি সাধন হউক এমন কোনো কাজ করা থেকে বিরত থাকায় সকলের জন্য উত্তম।

Patriot

২ মাস আগে

"সরকারকে নাজেহাল করতে বিরোধী দল চক্রান্ত চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁইয়া। " কথাটা সত্যিই বলেছেন এম পি সাহেব। এর আগে বি এন পি ভোটে জিতার পর স্বৈরাচার হাসিনা বলেছিল "এক দিন ও শান্তিতে থাকতে দিব না"। বর্তমান বিরোধী দল একই কায়দায় বর্তমান সরকারের পিছনে লেগেছে, এরা মিথ্যা কথা, অপবাদ দিয়ে বিরোধীতা করছে, কথায় কথায় রাজপথে নামার হুমকি দিচ্ছে।

হাসান, মাইজদি কোর্ট

২ মাস আগে

'গুপ্ত' একটি বাঙালি কায়স্থ পদবী। 'গুপ্ত' শব্দটি আভিধানিক অর্থে গোপন হলেও, বর্তমান রাজনীতিতে এটি একটি লুকানো এজেন্ডা বা দলকে ইঙ্গিত করে। জামাতের উচিত গুপ্ত বললে প্রতিক্রিয়া না দেখানো। বেশি প্রতিক্রিয়া দেখালে এটা ' রাজাকার' শব্দের মতোই ব্যাবহার হবে।

মন্তব্য করুন