ভিডিও করায় হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীর হাত ভেঙে দিলেন চাচা

ফন্ট সাইজ:

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় পারিবারিক বিরোধের ঘটনায় মারামারির ঘটনা ভিডিও করতে যাওয়ায় বীথি আক্তার (১৫) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে তার চাচার বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত ওই ছাত্রীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে তুষখালী ইউনিয়নের শাঁখারীকাঠি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

বীথি আক্তার ওই গ্রামের মো. বাদল হাওলাদারের মেয়ে এবং তুষখালী তোফেল আকন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী। ডান হাত ভেঙে যাওয়ার পর তার বাকি পরীক্ষা দেয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। জানা যায়, বীথি আক্তারের বাবা বাদল হাওলাদারের সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে চাচাতো চাচা নজরুল ইসলামের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।

মঙ্গলবার দুপুরে বাদল হাওলাদারের স্ত্রী তাদের রান্নাঘরে রান্না করছিলেন। রান্নাঘরের ধোঁয়া নজরুল ইসলামের পাকা ভবনে গেলে এ নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এদিকে বীথি পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরে মারামারির ঘটনা দেখে মোবাইল ফোনে ভিডিও করতে গেলে চাচা নজরুল মোবাইল ফোনটি জোরপূর্বক কেড়ে নেয়। পরে বীথি মোবাইল ফোনটি আনতে গেলে তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে নজরুল ইসলাম হাতুড়ি দিয়ে বীথির ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তার ডান হাত ভেঙে যায়।

আহত বীথিকে উদ্ধার করে প্রথমে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার অবস্থার অবনতি ও হাড়ের জখম গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক রাতেই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে। মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, বিষয়টি শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকলিমা আক্তার বলেন, বীথি যাতে বাকি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে তার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন