ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিদ্যুতের সরবরাহ তিন ভাগের ১ ভাগ অভিযোগ কেন্দ্রে ভাঙচুর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিদ্যুতের সরবরাহ তিন ভাগের ১ ভাগ অভিযোগ কেন্দ্রে ভাঙচুর

ফন্ট সাইজ:

গতকাল দুপুর ২টার দিকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ এলাকাধীন জেলা শহরের অর্ধেকাংশসহ আরও কিছু এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৩০ মেগাওয়াট। কিন্তু এর বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১১ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার ৩ ভাগের এক ভাগ বিদ্যুৎও মিলছে না। এই বিতরণ বিভাগের অধীন এলাকায় ৮টি ১১ কেভি লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়। এর মধ্যে গড়ে ৫টি লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে বলে জানান বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা। লোডশেডিং হচ্ছে প্রতি ঘণ্টায়। আর এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন গ্রাহকরা। এমন অবস্থায় গত মঙ্গলবার গভীররাতে শহরের দাতিয়ারায় বিদ্যুতের ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ এর অভিযোগ কেন্দ্রে কয়েকজন এসে হামলা চালায়। ভাঙচুর করে কাঁচের দরজা।

সেসময় অভিযোগ কেন্দ্রে কর্তব্যরত কর্মচারী খলিলুর রহমান জানান- রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তখন তিনি ছাড়া অভিযোগ কেন্দ্রে কেউ ছিলেন না। স্টাফরা ৩ জায়গায় ট্রান্সফরমারের ফিউজ ঠিক করার কাজে ছিলেন। সেসময় হঠাৎ ৩/৪ জন লোক এসে দরজাটি ভেঙে চলে যায়। ঘটনার খবর পেয়ে গতকাল দুপুরে পুলিশ এসে পরিদর্শন করে গেছে। বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ এর সহকারী প্রকৌশলী লতিফুর রহমান জানান- তারা ঘটনাটি মৌখিকভাবে এসপি এবং থানাকে জানিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ দেয়ার ব্যবস্থা করছেন। শহরের দাতিয়ারা, কাউতলী, ডিসি বাংলো, কাজীপাড়া, কান্দিপাড়া, শিমরাইলকান্দি, শেরপুর, পৈরতলা, উলচাপাড়া, গোকর্ণঘাট, আনন্দবাজার, খালপাড়, মোড়াইল, বণিকপাড়া, সাদেকপুর, ভাদুঘর, বিয়ালিশ্বর ইত্যাদি এলাকার প্রায় ৭৩ হাজার গ্রাহক রয়েছেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিতরণ বিভাগ-১ এর অধীনে। বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ এলাকাতেও বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে চাহিদার অর্ধেক। প্রতিদিন ৭-৮ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হচ্ছে সেখানে।

এখানে কর্মরত একজন প্রকৌশলী জানান- প্রতিদিন ২৩/২৪ মেগাওয়াট চাহিদা থাকলেও পাওয়া যাচ্ছে ১৪/১৫ মেগাওয়াট। ৬ থেকে ৮ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হচ্ছে। শুধু জেলা শহর বা আশপাশের এলাকাতে নয় গোটা জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেক বা তিন ভাগের একভাগে নেমে এসেছে। শহরের দাতিয়ারাস্থ ব্রাহ্মণবাড়িয়া গ্রিড থেকে জেলা সদর ছাড়াও বিজয়নগর, আখাউড়া, নবীনগর ও নাসিরনগরে বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়। এই গ্রিডের ইনচার্জ মো. নাছির উদ্দিন জানান- এসব এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ১৩০-১৩৫ মেগাওয়াট। সেখানে ৭০ মেগাওয়াট সরবরাহ করা হচ্ছে। জ্বালানি সংকট শুরুর পর থেকে এই সমস্যা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া জেলার সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলায় আশুগঞ্জ থেকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় দাউদকান্দি গ্রিড থেকে এবং কসবা উপজেলায় সেখানকার গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন